ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লেবুর হালি ২০০ টাকা

রোজার শুরুতেই লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার

রোজার শুরুতেই লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার
×

হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজারের একটি সবজির দোকান। শুক্রবার তোলা ছবি সমকাল

 হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

রমজানের শুরুতেই হাত ফসকে গেছে নিত্যপণ্যের বাজারের লাগাম। বিগত সময়েও খুব একটা সহনশীল ছিল না বাজার পরিস্থিতি। তবে নতুন সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তা বাস্তবে দৃশ্যমান নয়।
দেশের অন্যান্য জায়গার মতো অস্থির হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জের নিত্যপণ্যের বাজার। সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও বেগুন ও শসার দাম হাঁকিয়েছে সেঞ্চুরি। লেবুর হালি ঠেকেছে ১২০ থেকে ২০০ টাকায়। ফলের বাজারেও নাভিশ্বাস অবস্থা। মুরগির বাজার উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল থাকলেও কিছুটা স্বস্তি ছড়াচ্ছে ডাল ও ছোলার দাম। 

শুক্রবার সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত সরবরাহ ও পণ্যের মার্জিত রয়েছে বিক্রেতাদের হাতে। তবু উত্তাপ ছড়াচ্ছে সবজির দাম। বিশেষ করে লেবু, শসা আর বেগুনের দামে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। খুব বেশি হলে এক হালি লেবু যেখানে বিক্রি করা হয় ১২০ টাকায়। তা লাফ দিয়ে উঠেছে ২০০ টাকার ঘরে। বেগুন আর শসার দামও ১০০ টাকার ওপরে। ইফতারে বিশেষ চাহিদা থাকা ফলের দামও ঊর্ধ্বমুখী।
রমজানকে কেন্দ্র করে আপেল, আনার ও মাল্টার দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। আপেল প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, মাল্টা ৩৫০ ও  প্রতি কেজি তরমুজ ২০০ টাকা। 

ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা বাজারে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। বাড়তি দামে কেনার কথা বলে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন নিত্যপণ্যসহ ইফতারসামগ্রী। ফলে সাধারণ ক্রেতারা বাড়তি দামে ক্রয় করতে গিয়ে হিমশিমে পড়েছেন। তাদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। 
এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সবজির বাজারদর ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বাজার তদারকি জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। এ সময় তিনি বিভিন্ন দোকান ঘুরে নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা যাচাই করেন এবং বিক্রয়মূল্য পর্যবেক্ষণ করেন। 
ক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, রমজান এলেই বিক্রেতারা সাধারণ মানুষের পকেট কাটার জন্য পাগল হয়ে যায়। সরবরাহ ঘাটতি না থাকলেও দাম বাড়িয়ে দেয় বহু গুণ। সালমান মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, রমজান এলেই শসা, লেবু ও মরিচের দাম বাড়িয়ে দেয় বিক্রেতারা। তাদের সিন্ডিকেটের কাছে আমরা ধরাশায়ী। যদিও মহিবুর মিয়া নামে এক লেবু ব্যবসায়ীর দাবি, বাজারে লেবু সরবরাহ একদম কম। যে কারণে রোজায় চাহিদা বেশি থাকায় বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। এদিকে কুদরত মিয়া নামে এক ভোক্তা জানান,  কাঁচাবাজারের মালপত্রের দাম এক দিন বাড়ে, এক দিনে কমে যায়। আমরা দামে কিনে আনি বলেই দামে বিক্রি করতে হয়।

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বৃদ্ধি না করে, সে জন্য বাজার মনিটর করা হচ্ছে। রমজানে বাজারে দ্রব্যমূল্য যাতে ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এবং কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন

×