সরকারি জমিতে মার্কেট কোটি টাকা ইউপি চেয়ারম্যানের পকেটে
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজবাড়ী সদরের সুলতানপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিবের বিরুদ্ধে সরকারি জমিতে মার্কেট করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে একই ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরুজ্জামান ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে সরকারি জমিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে মার্কেট নির্মাণ ও ব্যবসায়ীদের টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বৃহস্পতিবার মার্কেট বন্ধ করে দিয়েছেন ইউএনও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সুলতানপুর ইউনিয়নের রামনগর বাজারে সরকারি খাস জমিতে মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিব। সেখানে মোট ৩৬টি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। মার্কেট নির্মাণ চলাকালে এলাকার ৮০ জনের কাছ থেকে দুই থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত নেন চেয়ারম্যান। নির্মাণ শেষে তারা ঘর বরাদ্দ চাইলে তিনি তালবাহানা শুরু করেন।
দোকান বরাদ্দ না পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগীদের পক্ষে মো. মনিরুজ্জামান রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও ইউএনও বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিব নির্মাণাধীন মার্কেটে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে রামনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ৮০ জনের কাছ থেকে টাকা নেন। মার্কেটে ৩৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি চেয়ারম্যান তাঁর কাছের ৩৬ জনকে এসব বরাদ্দ দেন। তাঁর মতো ৪৪ জন ভুক্তভোগী ৯ মাস ধরে দোকানের অপেক্ষায় আছেন। তারা দোকান দাবি করলে প্রথমে আশ্বাস দেন চেয়ারম্যান। পরে অস্বীকৃতি জানান।
মো. মনিরুজ্জামান পেশায় পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবসায়ী। তিনি জানান, দুটি দোকানের জন্য চেয়ারম্যানকে চেকের মাধ্যমে চার লাখ ও নগদ দুই লাখ টাকা দেন। বিশ্বাস করে চেয়ারম্যানকে টাকা দিয়েছিলেন। তিনি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিব একেকটি দোকানঘর দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে জানান মো. সম্রাট হোসেন। তিনি বলেন, দুই থেকে চার লাখ টাকা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। দোকান বরাদ্দ দেওয়ার সময় নানা টালবাহানা শুরু করেন চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান। এক পর্যায়ে তিনি এক দোকানের চাবি একাধিক ব্যক্তিকে দেন। পরে দোকান খুলতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। চেয়ারম্যান ৩৬ জনকে দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন। বাকি ৪৪ জন প্রতারণার শিকার। এখন চেয়ারম্যান দোকানও দিচ্ছেন না, টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান সচিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। রাজবাড়ী সদরের ইউএনও নিরুপমা রায় বলেন, বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। যেখানে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি সরকারি জমি। চেয়ারম্যান নিয়মবহির্ভূতভাবে মার্কেট নির্মাণ করেছেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের বেশ কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। মার্কেটের দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পেরিফেরিভুক্ত জমির দোকান বন্দোবস্ত দেওয়ার এখতিয়ার শুধু জেলা প্রশাসকের। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
- বিষয় :
- আত্মসাৎ
