ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিলুপ্তির ঝুঁকিতে গাইবান্ধার ওঁরাও, সাঁওতাল, পাহানদের ভাষা

বিলুপ্তির ঝুঁকিতে গাইবান্ধার ওঁরাও, সাঁওতাল, পাহানদের ভাষা
×

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নিজস্ব বর্ণমালার বই না থাকায় অনেকেই তাদের মাতৃভাষার চর্চা থেকে সরে যাচ্ছেন। ছবি: সমকাল

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৫:৪১ | আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৫:৪৫

চর্চা ও সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সমতলের আদিবাসীদের মাতৃভাষা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নিজস্ব বর্ণমালার বই না থাকায় অনেকেই তাদের মাতৃভাষার চর্চা থেকে সরে যাচ্ছেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা লেখাপড়া করছে বাংলা ভাষায়। কারণ, তাদের ভাষায় নেই কোনো বই। এমনকি কেউ কেউ জানেন না তাদের আদি ভাষাও। বাংলা এবং ইংরেজির আধিপত্যের মধ্যে এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া না হলে অনেক ভাষা বিলুপ্ত হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ওঁরাও, সাঁওতাল, মশুহর, পাহান, মাহালি, ঋষিসহ বেশ কয়েকটি নৃ-গোষ্ঠীর ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। তবে দিন দিন চর্চার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। বর্তমানে মুখে মুখে টিকে আছে ওঁরাও, সাঁওতাল, মশুহর, পাহান, মাহালি, ঋষিসহ ৬টি সম্প্রদায়ের ভাষা। অধিকাংশ সম্প্রদায়ের ভাষার নেই কোনো বই, নেই নিজস্ব ভাষার বর্ণমালাও। তাই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এসব ভাষা আজ বিলীনের পথে। এই সম্প্রদায়ের মানুষজন চান তাদের মাতৃভাষা টিকিয়ে রাখতে। 

তবে ভাষা ও সংস্কৃতিচর্চায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলেও স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেমন, ওঁরাও সম্প্রদায়ের ভাষা শেখাচ্ছেন কয়েকজন তরুণী। অবশ্য তাদের কাছেও নেই তাদের নিজস্ব ভাষার বর্ণমালা ও বই। ইংরেজিতে রূপান্তর করা বই থেকে শিশুদের চর্চা করাচ্ছেন তাদের নিজস্ব ভাষা।

সুচিত্রা মুরমু নামে এক তরুণীর ভাষ্য, আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা আজ বিপন্নের পথে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এগুলো টিকে থাকবে না। 

তিনি বলেন, আমি নিজ উদ্যোগে স্থানীয় আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষা শেখাচ্ছি। আমি চাই, তারা নিজের মায়ের ভাষার চর্চা করুক।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বার্নাবাস টুডু বলেন, আদিবাসীদের ভাষাগুলো আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। আমরা বিভিন্নভাবে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। 

সুফল হেমব্রম বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করতে হবে। তা না হলে অচিরেই এই ভাষাগুলো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, এই অঞ্চলে আদিবাসী মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট বা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র স্থাপন করার। এটি হলে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

×