কৈশোরের ঝোঁক থেকে পালাকার ইসলাম উদ্দিন
ইসলাম উদ্দিন
মোস্তফা কামাল, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
নাট্যকলা বিভাগে চলতি বছর একুশে পদক পাচ্ছেন কিশোরগঞ্জের জনপ্রিয় পালাকার ইসলাম উদ্দিন (৫৮)। তিনি পদকের জন্য আবেদন না করলেও গত ৫ জানুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফোনকলে সুখবরটি পান। গত ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে ইসলাম উদ্দিনের মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠানো হয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক বিতরণের অনুষ্ঠান। সেখানে তিনি যেন উপস্থিত থাকেন।
ইসলাম উদ্দিন করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের নোয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা। একুশে পদকে ভূষিত করায় তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর অর্জনে গর্বিত এলাকাবাসীও। ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমে তো বটেই, দেশের বিভিন্ন জেলায় পালাগানের জন্য ইসলাম উদ্দিন আমন্ত্রণ পান নিয়মিত। এমনকি নিজ কলা প্রদর্শন করেছেন বিদেশের মঞ্চেও। অভিনয় করেছেন নাটক-সিনেমায়। ১৯৯৯ সালে প্রথমে তিনি লন্ডনে পালাগান করেন। এর পর তাঁকে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ফ্রান্সে পাঠানো হয়। গেছেন ভারতেও।
সম্প্রতি নোয়াবাদের দর্গাভিটা বাজারে দেখা মেলে ইসলাম উদ্দিনের। বাজারে তাঁর স্বল্প পুঁজির রকমারি পণ্যের দোকান। দোকানের পেছনেই বানিয়েছেন স্টুডিও। একটি কম্পিউটারও আছে। তাতে ছেলে দিদারুল ইসলাম মাঝেমধ্যে কাজ করেন। দোকানেই ইসলাম উদ্দিন তুলে ধরেন শৈশব থেকে অদ্যাবধি তাঁর লোকজ সংগীত ও নাট্যচর্চার ইতিবৃত্ত। তাঁর বাবা রবিউল্লাহ মারা যান ৪৫ বছর আগে। তখন ইসলাম উদ্দিনের ১৩ বছরের কিশোর। মা আমেনা খাতুন ও দুই বড় ভাই ছিল সংসারে। তবে সহায়-সম্পদ তেমন না থাকায় ভাইয়েরা দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। ওই সময়েই পালাগানের প্রতি ইসলাম উদ্দিনের ঝোঁক তৈরি হয়। এ নিয়ে স্বপ্ন বুনে দেন নেত্রকোণার বরেণ্য পালাকার কুদ্দুস বয়াতি। তাঁর পালা শুনে মুগ্ধ ইসলাম উদ্দিন ১৯৮৮ সালে চলে যান কুদ্দুস বয়াতির বাড়িতে। সেখানে ৯ মাস তালিম নেন। পরের বছর থেকেই তিনি পালাগানের মঞ্চে উঠে পড়েন। বাড়তে থাকে ব্যস্ততা, ছড়িয়ে পড়ে তাঁর সুখ্যাতি।
ইসলাম উদ্দিন শুরুতে ঝুমুর যাত্রাপালায় গান ও অভিনয় করেছেন। অভিনয় করেছেন লোককাহিনিভিত্তিক সিনেমায়। গেয়েছেন গানও। ‘কীর্ত্তনখোলা’, ‘পাগলা ঘোড়া’, নূহাশ হুমায়ুনের ওয়েব সিরিজ ‘বেসুরা’তেও গান গেয়েছেন, অভিনয় করেছেন। এখন কাজ করছেন স্থানীয় পরিচালক মোস্তাফিজ মামুনের ‘জলমহল’ সিনেমায়। গান লিখে, সুরারোপ করে নিজেই কণ্ঠ দিয়েছেন, করছেন অভিনয়ও।
নিজের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে। মাস্টার্স শেষ করে বড় মেয়ে দিলরুবা আক্তারের বিয়ে হয়েছে। ছেলে দিদারুল ইসলাম এবার জেলা শহরের ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ থেকে ভূগোল বিষয়ে অনার্স শেষ করেছেন। মাস্টার্স পড়বেন। ছোট সন্তান মাহবুবা আক্তার এবার ভর্তি হবেন অনার্সে। বাবার সঙ্গে পরিবারের সবার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ বলে জানান দিদারুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাবা খুবই খোলা মনের মানুষ। কোনোকিছুই গোপন করেন না।
- বিষয় :
- একুশে পদক
