দুই চিকিৎসকে চলছে দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
পটুয়াখালী ও দুমকী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি না থাকায় খুঁড়িয়ে চলছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের পরও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে সেবার মান না বাড়ায় এখানে চিকিৎসা নিতে আসছে না রোগী। এতে প্রায়ই ফাঁকা থাকছে হাসপাতালের শয্যা।
সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হয়। তারপরও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি। হাসপাতালটিতে নানাবিধ সমস্যার মধ্যে জনবল সংকট অন্যতম। ১৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫২ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৭ জন। চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে একান্ত বাধ্য না হলে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আগ্রহ দেখান না।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শহিদুল হাসান শাহীন প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। নিজের খেয়াল-খুশিমতো অফিসে আসা-যাওয়ার পাশাপাশি প্রধান সহকারীকে দায়িত্ব না দিয়ে অফিস সহকারীকে দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করান তিনি। শহিদুল হাসান এবং অফিস সহকারী দিলরুবা ইয়াসমিন ২০০৩ সালের নভেম্বরের দিকে এখানে যোগদান করেন। একই কর্মস্থলে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কর্মরত তারা কোনোকিছুই তোয়াক্কা করছেন না। তারা দুজনে মিলে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জনবল সংকট, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, নোংরা পরিবেশসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক মেডিকেল অফিসার থাকেন না। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে।
উত্তর শ্রীরামপুর এলাকার রোগীর স্বজন মোসা. রাশিদা বেগম বলেন, ‘এখানে চিকিৎসক নেই। নার্স এবং রোগ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নেই। এখানে চিকিৎসা নিতে রোগী আসবে ক্যান?’
দক্ষিণ শ্রীরামপুর এলাকার মোহাম্মদ আব্দুল খালেক বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষ আসে সুস্থ হওয়ার জন্য। সেখানের যে পরিবেশ, এতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’
দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। রোগীরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেও বিঘ্ন ঘটছে।
সিভিল সার্জন মো. খালেদুর রহমান মিয়া জানান, শুধু দুমকীই নয়, পুরো জেলাতে চিকিৎসকের তীব্র সংকট চলছে। তারপরও যেটুকু রয়েছে তা দিয়ে চেষ্টা চলছে রোগীদের সেবা দেওয়ার। আশার কথা হচ্ছে, বিপুল চিকিৎসক নিয়োগ হচ্ছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দেশের সব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসকের সংকট কমে আসবে।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
