হাসপাতালের জমিতে অবৈধ দোকান-বাড়ি, চত্বরে ভাগাড়
সাঁথিয়ার কাশিনাথপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে আবর্জনার স্তূপ। পাশেই অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বাড়ি-দোকান সমকাল
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র কাশিনাথপুর। এই জনপদের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কাশিনাথপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন নিজেই যেন ‘রোগাক্রান্ত’। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো আঙিনা পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড় ও গণশৌচাগারে।
সীমানা প্রাচীর না থাকায় সাধারণ মানুষ ও হাঁটুরেরা অবাধে এখানে মলমূত্র ত্যাগ করছে। বাজারের ব্যবসায়ীরাও কেন্দ্রটিকে ব্যবহার করছেন ডাস্টবিন হিসেবে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগীকে নাকে রুমাল চেপে দুর্ভোগের মধ্যে ভেতরে প্রবেশ করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকান ও বসতবাড়ি। মূল ফটকের কাছেই রয়েছে সাইকেল-রিকশা মেরামতের দোকান। দক্ষিণ দিকে প্রায় ৪০-৪৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছে ৭-৮টি হরিজন পরিবার। যদিও তাদের জন্য এর আগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তারা এলাকা ছেড়ে দূরে যেতে নারাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা এটি গণশৌচাগার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও সন্ধ্যা হলেই এখানে মাদকসেবীদের আসর বসে।
অবৈধ দখলদার সাইকেল-রিকশা মেরামতের দোকানি আকবর আলী বলেন, ‘৪০ বছর ধরে এখানে দোকান করে আছি। এখন দোকান তুলে দিলে পরিবার নিয়ে সমস্যায় পড়ে যাব। এরপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জায়গা ছেড়ে দিতে বললে ছেড়ে দেব।’
অবৈধভাবে ঘরবাড়ি তুলে বসবাস করা রনি হরিজন বলেন, ‘৪৫ বছর ধরে এ জায়গায় ৭-৮টি পরিবার বসবাস করছে। হাসপাতালের ভেতরে ও কাশিনাথপুর সদর এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ আমরাই করে থাকি। আমাদের এখান থেকে তিন-চার কিলোমিটার দূরে আশ্রয়ণের ঘর দেওয়া হয়েছিল। দূর হওয়ায় আমরা সেখানে যাই নাই। সদরে খাস জায়গা বরাদ্দ দিলে আমরা হাসপাতালের জায়গা ছেড়ে দেব।’
চিকিৎসা নিতে আসা টাংবাড়ি গ্রামের আলেয়া খাতুন ও আজিজুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে চিকিৎসা ভালো হয়। তবে পরিবেশ এত নোংরা যে দুর্গন্ধে বমি আসে। সুস্থ হতে এসে উল্টো অসুস্থ হওয়ার দশা হয় আমাদের।’
উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (এমও) এনামুল হক জানান, প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী এখানে সেবা নিতে আসেন। আঙিনার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে রোগীরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে, যা এখনও অপসারণ করা হয়নি।
কাশিনাথপুর হাটের ইজারাদার মোস্তাফিজুর রহমান টিপু ও বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দের মতে, সীমানা প্রাচীর না থাকায় এই বিশৃঙ্খলার প্রধান কারণ। উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সহকারী অধ্যাপক শফিকুল আলম খান টিটুল দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানটিকে দখলমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল বাতেন জানান, পরিত্যক্ত ভবনটি নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া এবং আঙিনা ভরাট করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ আশ্বাস দিয়েছেন যে, দ্রুতই পরিত্যক্ত ভবন, আবর্জনা অপসারণসহ অবৈধ দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- হাসপাতালে
