ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম

বিলুপ্ত ধারায় মেয়র থাকছেন শাহাদাত

বিলুপ্ত ধারায় মেয়র থাকছেন শাহাদাত
×

ডা. শাহাদাত হোসেন

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:০৪ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

আইনে সুযোগ না থাকলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষে বিএনপি নেতা  ডা. শাহাদাত হোসেনকেই পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত মেয়র পদে রাখতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৬ ধারার বিলুপ্ত শর্ত ব্যবহার করছে। 

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী আইনের ৬ ধারা উল্লেখ করে জানান, পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মেয়রই দায়িত্ব পালন করবেন। 

আইনের ৬ ধারায় সিটি করপোরেশনের মেয়াদ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, করপোরেশনের মেয়াদ হবে প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। আইনানুযায়ী মেয়াদপূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। 

২০০৯ সালে আইন প্রণয়নের সময় ৬ ধারায় শর্ত ছিল, মেয়াদ শেষ হলেও পুনর্গঠিত সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মেয়র দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
তবে ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনটি সংশোধন করে এই শর্ত দেওয়া হয়। সংশোধিত ৬ ধারায় বলা হয়েছে, মেয়াদ শেষে পরিষদ বিলুপ্ত হবে। জনপ্রতিনিধির পদে থাকার সুযোগ থাকবে না। 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আইনের যে পিডিএফ কপি রয়েছে, তাতে আইনের ৬ ধারা সংশোধনের বিষয়টি নেই। তবে আইন মন্ত্রণালয়ে এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে থাকা কপিতে ৬ ধারা শর্তটি বিলোপের তথ্য রয়েছে।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় একই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি। এ হিসেবে করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয় গত রোববার। নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমান মেয়র দায়িত্ব পালন করবেন নাকি প্রশাসক নিয়ে হবে– এ  আলোচনা চলছে।

২০১৫ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়েছিল। ২০২০ সালের ৬ আগস্ট করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হলে তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বিদায় নেন। করোনা মহামারির কারণে নির্বাচন না হওয়ায় তৎকালীন সরকার আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজনকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর মেয়রের চেয়ারে বসেন রেজাউল করিম চৌধুরী। 

জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট জারি করা অধ্যাদেশে সিটি করপোরেশন আইনে পরিবর্তন এনে, অন্যান্য মেয়রের মতো রেজাউল করিমকেও অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২১ সালের নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা মামলায় আদালতের রায়ে চব্বিশের নভেম্বরে মেয়র পদে বসেন শাহাদাত হোসেন। তাঁর ভাষ্য, ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। 
যদিও আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী, করপোরেশন বিলুপ্ত করলে ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ হিসাবে ২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের কথা ছিল। বিএনপি সংসদের আগে স্থানীয় নির্বাচনে রাজি না হওয়ায় ভোট হয়নি।  
২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ আমলে তিনবার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনবার সংশোধন করা হয় সিটি করপোরেশন আইন। সংশোধনী অনুযায়ী, করপোরেশনের মেয়াদ শেষে মেয়র পদে থাকার সুযোগ নেই। 

সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী সমকালকে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন আয়োজন বিষয়ে জানানো হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সম্পন্ন করবে। তবে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মেয়রই দায়িত্ব পালন করবেন। কবে নাগাদ এ সিটির নির্বাচন হতে পারে– এমন প্রশ্নে রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বলেন, নির্বাচন কবে হবে, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সমকালকে বলেন, নির্বাচনের আয়োজন বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে যে চিঠি পেয়েছি, সেটা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 
গত রোববার শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, আদালতের রায়ে তাঁর মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এর আগেই নির্বাচন চান। নির্বাচন না হওয়া ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মেয়র হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে যাবেন। 


 

আরও পড়ুন

×