জাবি ছাত্রীকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ, মামলা
প্রতীকী ছবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৭:৩০ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:০৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ কল করলে আশুলিয়া থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সাভারের আশুলিয়া থানায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম তারিকুল ইসলাম। তিনি ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ৪৪ ব্যাচের (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ) সাবেক শিক্ষার্থী।
পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়। সেখানে তিনি শিক্ষার্থী কল্যাণ উপদেষ্টা ছন্দা খাতুনের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন।
ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে শিক্ষক ছন্দা খাতুন বলেন, ''অভিযুক্তের সঙ্গে ছাত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, যা পরে ভেঙে যায়। মঙ্গলবার তারিকুল ইসলাম হলের সামনে এসে ‘শেষবারের মতো কথা বলার’ কথা বলে তাকে বাসায় যাওয়ার জন্য চাপ দেন। ছাত্রী রাজি না হলে তাকে বিভিন্নভাবে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করা হয়।”
ওই শিক্ষক বলেন, ‘এক পর্যায়ে ইফতারসামগ্রী কেনার কথা বলে ভুক্তভোগী তার বাসায় যান। সেখানে পৌঁছার পর অভিযুক্ত তার মুখে টেপ লাগিয়ে মারধর করেন এবং হাতের ওপর গরম পানি ঢেলে দেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী পুড়ে যাওয়া ক্ষতের ওষুধ কিনতে বাইরে যেতে চাইলে অভিযুক্ত কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। মেয়েটি তখন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।’
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন, ‘মেয়েটির হাতের তিন থেকে চার সেন্টিমিটার জায়গা পুড়ে গেছে। আমাদের কেন্দ্রে এ ধরনের বার্ন ইনজুরির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে জেনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনও আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদার (ওসি) জানান, ‘ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
- বিষয় :
- জাবি
