রাউজানে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা
নিহত যুবদল কর্মী মোহাম্মদ মুজিব। ছবি-সংগৃহীত
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১:৩৪ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:৪৫
চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে মোহাম্মদ মুজিব (৫৫) নামে যুবদলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলি মিয়ার হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মোহাম্মদ মুজিব পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওলা পিতাবাড়ির প্রয়াত আবদুল মোনাফের ছেলে। তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী। পরিবার জানিয়েছে, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন মুজিব।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ইফতার করে অলি মিয়ার হাটে গিয়ে এক দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন মুজিব। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে চার সন্ত্রাসী এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। মুজিবের বুকে একটি ও কপালে একটিসহ শরীরে মোট তিনটি গুলি লাগে। গুলি করার পর মোটরসাইকেলে রাউজান নোয়াপাড়া সেকশন-২ সড়ক দিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুজিবকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গুলির শব্দে পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) টিবলু কান্তি দে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাঁর শরীরে তিনটি গুলি লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা গেছেন।
উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বেলাল বলেন, দুর্বৃত্তরা মুজিবকে গুলি করার পর আমার ওপরও হামলা করতে চেয়েছিল। ভাগ্যক্রমে আমি পালিয়ে রক্ষা পেয়েছি। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে স্বামীর মরদেহের পাশে বিলাপ করতে করতে স্ত্রী শানু আক্তার সমকালকে বলেন, ‘আমার স্বামী ইফতারের পর বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে শুনতে পাই, তাকে তিনটা গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। আমি হাসপাতালে এসে দেখি, তিনি আর বেঁচে নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। আমার স্বামী রাউজানের নির্বাচিত সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনীতি করত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি করার অপরাধে তাকে মারধর করা হয়েছিল।’
মুজিবের বড় ভাই আবদুল আজিজ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, ইফতারের আগে একটি চায়ের দোকানে আমার ভাইয়ের সঙ্গে কিছু যুবকের ঝগড়া হয়েছে। ধারণা করছি, ঘটনাটি তারাই ঘটিয়েছে।’
নিহতের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাউজান থেকে নির্বাচিত বিএনপির এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে আমার ভাইয়ের ওপর দুবার হামলা করা হয়েছিল। সে সময় বেঁচে যান। এবার আর বাঁচতে দেয়নি তারা।’
রাউজান থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, গুলিতে একজনের মৃত্যুর ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। অপরাধীদের আটকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে পুলিশ।
এর আগে ৫ জানুয়ারি অলি মিয়ার হাট থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে যুবদল নেতা জানে আলম শিকদারকে একই কায়দায় মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। শিকদারপাড়া এলাকায় তাঁর বাড়ি।
স্থানীয়রা জানান, জানে আলম নিজের বাড়ির পাশের রাস্তায় হাঁটছিলেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধের পর জানে আলমকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মহিউদ্দিন নামে এক বিএনপির কর্মী জানান, তাঁকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে পালিয়ে গেছে। জানে আলমের বুকে দুটি গুলি করা হয়েছে। তাঁকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনার দেড় মাস পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
জানে আলম হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাউজান যুবদলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত এবং আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা জানে আলম। আওয়ামী লীগের ‘বি’ টিমখ্যাত বিএনপি দাবিদার ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
ওই বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাউজানে সংঘটিত ১৮টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১১ জনই তাঁর অনুসারী।
