ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভ্রাম্যমাণ বাজারে খানিকটা স্বস্তি

ভ্রাম্যমাণ বাজারে খানিকটা স্বস্তি
×

হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

গৃহকর্মী বিলকিস খাতুন। স্বামী অসুস্থ থাকায় গত কয়েক দিন তিনি কাজে যেতে পারেননি। প্রতিবছরের মতো দুজন এবারও রোজা করছেন। সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী। রোজার মাস এলেই টানাটানির সংসারে অভাব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। পেটপুরে খেতে না পারলেও নিয়মিত রোজা পালন করছেন মনের জোরে। 
বুধবার দুপুরে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিলকিস খাতুনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। সেখানে তিনি ন্যায্যমূল্যে ডিম কিনতে এসেছেন। বললেন, স্বামী অসুস্থ; নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। হাতে বাজার করার মতো তেমন টাকাপয়সাও নেই। অল্প কিছু টাকা ছিল, সেটা দিয়ে এক ডজন ডিম কিনেছেন। এই ডিমে তাদের ৪-৫ দিন চলে যাবে। এখানে দাম কম থাকায় খানিকটা স্বস্তি পেয়েছেন।

মাহে রমজান উপলক্ষে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভ্রাম্যমাণ বাজারে ডিম, দুধ ও মাংস বিক্রয়কেন্দ্রে এসে অনেকেই বিলকিস খাতুনের মতো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। চড়া দ্রব্যমূল্যের বাজারে এ উদ্যোগে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও উপকৃত হবে বলে জানালেন উপজেলার বিশখালি গ্রামের ভ্যানচালক মুকুল হোসেন। তিনিও এখান থেকে নিয়েছেন সুলভ মূল্যের ডিম। 
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নির্দেশনায় সারাদেশে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে রমজান মাসে প্রাণিজ পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্রয়লার, দুধ, ডিম ও গরুর মাংস বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার কুণ্ডু জানান, নির্দেশনায় বিভাগ ও জেলার কথা উল্লেখ থাকলেও সাধারণ মানুষের কথা ভেবে তারা এটি হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় চালু করেছেন। তিনি বলেন, এ কার্যক্রমে অংশীজনদের সহযোগিতা নিয়েছেন তারা। প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে মুরগি ও গবাদি পশু পালন গ্রুপের সদস্যরা তাদের উৎপাদিত ডিম, দুধ ও মাংস এই ভ্রাম্যমাণ বাজারে বিক্রি করছেন। 
উজ্জ্বল কুমার কুণ্ডু বলেন, ভ্রাম্যমাণ বাজার থেকে মানুষ প্রতিটা ডিম ৮ টাকা, দুধ প্রতি লিটার ৬০ টাকা ও ৬৫০ টাকায় প্রতিকেজি গরুর মাংস কিনতে পারবেন। সপ্তাহের সোম ও বুধবার এ কার্যক্রম চলবে। উপজেলা প্রশাসনও তাদের সহযোগিতা করছে।
উপজেলার হরিশপুর গ্রামের দেশি মুরগি প্রডিউসার গ্রুপের সভাপতি শেফালি খাতুন জানান, দেশি ও ব্রয়লার মুরগি পালনে প্রাণিসম্পদ দপ্তর তাদের প্রশিক্ষণসহ নানান সহযোগিতা করছেন। এতে তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। তাই ন্যায্যমূল্যের এই বাজারে তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করছেন। এতে তারা যেমন অধিক পণ্য বিক্রি করতে পেরে লাভবান হচ্ছেন, ক্রেতারাও কম দামে পণ্য কিনে খুশি হচ্ছেন। 
ইউএনও মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন

×