হবিগঞ্জে সিলিকা বালু লোপাট প্রশাসনের নজরদারি জোরদার
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর, চুনারুঘাট ও বাহুবল উপজেলায় সিলিকা বালুমহালগুলোকে ঘিরে অবৈধ উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে অধিকাংশ মহালের ইজারা নেই, তবে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু তোলা অব্যাহত রেখেছে। এতে পরিবেশ, কৃষিজমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলায় মোট ২৩টি সিলিকা বালুমহাল রয়েছে। এসব বালুমহালের মধ্যে মাধবপুরে আটটি, চুনারুঘাটে সাতটি এবং বাহুবল উপজেলায় আটটি বালুমহাল অবস্থিত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাধবপুরের মনতলা-চৌমুহনী ও বহরা এলাকায় বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া ও নদী থেকে চোরাই পথে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তবে বর্তমানে মাধবপুরে ইজারা দেওয়া কোনো সিলিকা বালুমহাল নেই।
চুনারুঘাট উপজেলার মুরিচড়া, পানছড়ি গাদাছড়া, বদরগাজী, সুতাংছড়া ও কারাঙ্গী নদীসংলগ্ন এলাকায় টিলা ও ছড়া কেটে বালু নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব এলাকায়ও বর্তমানে কোনো ইজারাদার নেই।
বাহুবল উপজেলার মিরপুর, ভাদেশ্বর, পুটিজুরি, সাতকাপন ও স্নানঘাট এলাকা থেকেও সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গভীর খনন করে বালু তোলায় ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, অননুমোদিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত
হচ্ছে, টিলা ধসের ঝুঁকি বাড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে বেলা একটি রিট দায়ের
করলে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। আদালতসংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং তিন মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেয়।
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
- বিষয় :
- বালুদস্যু
