রংপুরে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি
ভোটের মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা
দিনক্ষণ নির্ধারণ না হলেও চলছে প্রচারণা
স্বপন চৌধুরী, রংপুর
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই রংপুরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এখনও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন। ফেসবুক ও স্থানীয়ভাবে নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। নগর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্ন নগর ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি সামনে আনছেন প্রার্থীরা।
রংপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবার আগের চেয়ে বেশ উত্তপ্ত। সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনেই জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এমন পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও তারা নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে চায়। তাই দলটি কৌশলী প্রার্থী বাছাইয়ে তৎপর। সরাসরি দলীয় পদপদবিসম্পন্ন প্রার্থীই তাদের প্রথম লক্ষ্য। যদি এমন প্রার্থী না পাওয়া যায়, তবে জামায়াতকে সমর্থন করে বা পরিবারিকভাবে দলটির সঙ্গে সম্পর্কিত হেভিওয়েট প্রার্থীই তাদের দ্বিতীয় লক্ষ্য।
অন্যদিকে, বিএনপি রংপুরে নিশ্চিত প্রার্থী নিয়েই বিজয় আনতে চায়। বিএনপির রংপুর মহানগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী-ডন সামাজিক মাধ্যম ও নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালাচ্ছেন। আলোচনায় আছেন বিএনপি নেতা কাওসার জামান বাবলাও।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাও মাঠে সক্রিয়। তিনি এটিকে নিজের শেষ নির্বাচন হিসেবে দেখছেন এবং নগরবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তানবীর হোসেন আশরাফি ও সাবেক পৌরসভা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মানিকও নীরবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
১৯৯১ থেকে ২০২৪ সালের প্রতিটি নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর) আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। এবার জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল এক লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। আর ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তৃতীয় হয়েছেন। এই কারণে জামায়াত কোনোভাবেই নগর ভবন হারাতে চায় না। তারা চায়, এমন প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে, যিনি তাদের শক্ত ভোটব্যাংক ধরে রাখতে পারবেন।
অন্যদিকে, বিএনপি চাইছে এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে, যিনি জামায়াতের ভোটব্যাংক ভেঙে বিজয়ী হতে পারবেন। দলের সূত্র বলছে, এ জন্য প্রার্থী বাছাই নিয়ে সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
একই অবস্থা জাতীয় পার্টিতেও। রংপুর সিটিতে জয়ী হতে দলের কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।
রংপুর মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, ‘আমি ফ্যাসিস্ট আমলের সাড়ে ১৭ বছর নির্যাতিত ছিলাম, দলের জন্য কাজ করেছি। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নগরবাসীর পাশে ছিলাম। আমি প্রত্যাশা করি, দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’
জামায়াতের রংপুর মহানগর আমির অধ্যাপক এ টি এম আজম খান বলেন, জামায়াত নির্বাচন করবে– এটা সিদ্ধান্ত আছে। তবে এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘আমি নির্বাচিত মেয়র ছিলাম। আমাকে অন্যায়ভাবে অপসারণ করা হয়েছে। এবারও নির্বাচন করব। আমি বিশ্বাস করি, নগরবাসী আমার সঙ্গে থাকবে।’
- বিষয় :
- সিটি করপোরেশন
