ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অন্যের গবেষণা প্রবন্ধ নিজের নামে দেওয়ার অভিযোগ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

অন্যের গবেষণা প্রবন্ধ নিজের নামে দেওয়ার অভিযোগ
×

পবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য এবং কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানের বিরুদ্ধে অন্যের গবেষণা প্রবন্ধ নিজের নামে দেওয়ার  (সাইটেশন) অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উপ-উপাচার্য হওয়ার প্রাক্কালে ড. হেমায়েত জাহান গুগল স্কলারে নিজের প্রোফাইলে অন্য গবেষকদের প্রবন্ধ যুক্ত করেছিলেন। ফলে তাঁর সাইটেশন সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রায় দুই হাজারে পৌঁছায়। পরে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগের পর তাঁর প্রোফাইলে মাত্র ৩২৬টি সাইটেশন দেখা যাচ্ছে।

গবেষণা জগতে একজন গবেষকের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব মাপার অন্যতম সূচক হলো সাইটেশন সংখ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা গবেষণা অনুদান নির্ধারণে এই সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সাইটেশন বাড়াতে কৃত্রিমপন্থা গ্রহণের অভিযোগও নতুন নয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপউপাচার্য এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে সাইটেশন জালিয়াতির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারের পরই অধ্যাপক হেমায়েত জাহান নিজের প্রোফাইল থেকে অন্য গবেষকদের প্রবন্ধ সরিয়ে নেন।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগে শিক্ষকতার পাশাপাশি ভালো গবেষকদের অগ্রাধিকার দিয়েছিল। সে সময় উপাচার্য হওয়ার প্রয়াসে অধ্যাপক হেমায়েত জাহান কৃত্রিম পন্থায় নিজের প্রোফাইলে অন্য গবেষকের প্রবন্ধ যুক্ত করে সাইটেশন সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ান। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গুগল স্কলারে তাঁর সাইটেশন সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৬০। 

গুগল স্কলারের প্রোফাইল গবেষকরাই পরিচালনা করেন এবং প্রবন্ধগুলো নিজ উদ্যোগে যুক্ত করতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, নামের মিল থাকা বিভিন্ন দেশের গবেষকের প্রবন্ধ ড. হেমায়েত জাহানের প্রোফাইলে যুক্ত করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান তাঁর সাইটেশন জালিয়াতির জন্য অস্ট্রেলিয়ান গবেষক Sayka Jahan (S Jahan)-এর বেশির ভাগ গবেষণা প্রবন্ধ নিজের প্রোফাইলে আপলোড করেছিলেন। এসব সাইটেশনের ভিত্তিতেই তিনি ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান।
অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান ঘটনাটিকে ‘অটোম্যাটিক পদ্ধতির ফল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের কারণেই হয়তো অতিরিক্ত সাইটেশন যুক্ত হয়েছিল। পরে অন্য গবেষকদের নাম নজরে এলে বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে আমি প্রোফাইলে সাইটেশন বাড়ার বিষয়টি খেয়াল করিনি। তাই এভাবে অন্যের আর্টিকেল যুক্ত হয়ে গিয়েছিল।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ড. মো. গুলজার হোসেন বলেন, গুগল স্কলার অটোম্যাটিক এনাবল করে রেখে অনেকেই অন্যের আর্টিকেল নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করে ফেলেন। কিন্তু এখানে কোনো গবেষক যখনই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেন, তখন দেখতে পারেন কারও সাইটেশন যুক্ত হয়েছে কিনা। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে আর্টিকেল যুক্ত হওয়ার পর সাজেশনও আসে–সেই আর্টিকেল তার কিনা। তাই পদ-পদবি পাওয়ার উদ্দেশ্যে অন্যের সাইটেশন নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করে রাখা বড় অন্যায়। এসব জালিয়াতির ব্যাপারে গুগল স্কলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে আইডি বন্ধ করে দেয়।
বিশিষ্ট গবেষক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, এত কম সময়ে এত বিশাল সংখ্যক সাইটেশন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। এ ধরনের গবেষকদের আমরা সাধারণত ‘সিউডো সায়েন্টিস্ট’ বলে থাকি। যদি কোনো ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে এভাবে সাইটেশন বাড়িয়ে কোনো পদ-পদবি পেয়ে থাকেন, তবে সরকারি বিধি অনুসারে পদাবনতির বিধান রয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×