ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া

বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া
×

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় কিশোরদের নেতৃত্বে সমবয়সীরা ছোট ছোট দল গড়ে বিভিন্ন অপরাধকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবন, বিকট শব্দে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর মতো এমন সব কাজ করছে, যা সমাজের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে। তাদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মূলে রয়েছে মাদক ও জুয়ার বিস্তার। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। সমাজের মধ্যে নিজেদের মতো করে তারা নতুন এক সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। হঠাৎ কিশোর গ্যাংয়ের দাপটে চলাফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। মারামারি, মেয়েদের উত্ত্যক্ত, মাদক সেবন, বিকট শব্দে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।

পুলিশ জানায়, রোববার তারাবিহ নামাজের সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দু’গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শহরের মোহনপুর বাইপাস সড়কে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এ সময় দুই গ্রুপের সদস্যরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ৯৯৯-এ কল পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার শহীদুল হক মুন্সি ও হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। আটককৃতরা হলো, মাছুলিয়া গ্রামের রাকিব, অনন্তপুরের রাহিম ও উমেদনগর গ্রামের নুর আলম।
সোমবার হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালন করছে পুলিশ। তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলমান। তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার হবিগঞ্জ শহরের রাজনগর, মহিলা কলেজ, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় ২০/২৫ জনের একটি কিশোর টিম ধারালো চাপাতি ও চায়নিজ কুড়াল নিয়ে মহড়া দেয়। এক পর্যায়ে তারা অস্ত্র নিয়ে ভিডিও ধারণ করে। এমন ঘটনায় শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রী ও শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী নারী এবং জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী এসব কিশোরের এমন ভয়াবহ দৌরাত্ম্যে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।
এর আগের মঙ্গলবার শহরতলির ধুলিয়াখালিতে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় ১০/১২ জনের একটি কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত দেখা দেয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা মোটরসাইকেলে মহড়া দেয়। বিকেলে ৫টার পর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামের আবু সুফী মো. গোলাম রহমান নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর ছেলেকে ইজিবাইক থেকে টেনে মাটিতে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে তাদের ফিল্মি স্টাইলে পার্শ্ববর্তী খোলা জায়গায় নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ক দিয়ে চলাচলরত সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত আবু সুফী হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এ বিষয়ে শহরের সবুজবাগ এলাকার ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, তারা দলবেঁধে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরে। কয়েকদিন ধরে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এতে জনমনে ভয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। নোমান হোসাইন বলেন, শহরের কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। প্রকাশ্যে তারা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। এখনই তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে, পরে তারা চাঁদাবাজিসহ বড় ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হবে।
প্রত্যেক্ষদর্শী কামাল মিয়া বলেন, ধুলিয়াখালের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় একদল কিশোর হঠাৎ ইজিবাইক (টমটম) থেকে এক বৃদ্ধ ও তাঁর ছেলেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে। মোহনপুর এলাকার বাসিন্দা তৌহিদ মিয়া বলেন, রাত ৮টার দিকে দু’দল কিশোর অস্ত্র নিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়। তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।  
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক বলেন, ইদানীং অল্প বয়সী কিশোদের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সামান্য বিষয় নিয়ে তারা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি এখনই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তা হলে হয়তো বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা অবনতির শঙ্কা থেকেই যাবে।
হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন বলেন, কিশোররা তাদের বন্ধুবান্ধব মিলে গ্রুপ সৃষ্টি করে অপরাধ করছে। মাদক, ইভটিজিংয়ের বিষয় নিয়ে তারা বিবাধে লিপ্ত হচ্ছে।
 

আরও পড়ুন

×