ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কুমারখালীতে লালন স্মরণোৎসবে বাউল ফকিরদের সাধুসঙ্গ

কুমারখালীতে লালন স্মরণোৎসবে বাউল ফকিরদের সাধুসঙ্গ
×

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়িতে গতকাল বিকেলে শুরু হয়েছে অষ্টপ্রহরব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। প্রতিবছর দোলপূর্ণিমা তিথিতে তিন দিনের আয়োজন থাকলেও এবার রমজানের কারণে ব্যাপ্তি কমানো হয়েছে। নেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। আজ বিকেলে শেষ হবে

 কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাউলদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে আজ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে এক দিনের লালন স্মরণোৎসব। প্রতিবছর দোলপূর্ণিমা তিথিতে তিন দিনের আয়োজন থাকলেও এবার রমজানের কারণে ব্যাপ্তি কমানো হয়েছে। নেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। সকালে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্যদিয়ে শেষ হবে লালনভক্ত বাউল-ফকিরদের সাধুসঙ্গ। গত সোমবার সন্ধ্যায় অষ্টপ্রহরব্যাপী গুরুকার্যের মাধ্যমে শুরু হয় এই চিরাচরিত রীতির সাধুসঙ্গ। 

এর আগে সোমবার দুপুরে আলোচনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন লেখক-চিন্তক ফরহাদ মজহার। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজকে যে যুদ্ধ-বিগ্রহ চলছে, যে হত্যা চলছে, তার বিপরীতে যার নাম বারবার উচ্চারিত হবে, তিনি ফকির লালন সাঁই। ফলে লালনকে যত বেশি চর্চা করতে পারব, আমরা বিশ্বে তত বেশি নিজেকে হাজির করতে পারব। আর যদি আমরা তাঁকে উপেক্ষা করি, তাহলে মারাত্মক ভুল করব। আমরা দ্রুতই ক্ষয়ের দিকে, বিন্যাসের দিকে যাব।’

জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রাশিদজ্জামান।
বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, উৎসবে অংশ নিতে কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে এসেছেন লালনভক্ত বাউল-ফকিররা। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লালন ফকিরের গান। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় উপস্থিতি অনেক কম। নেই চিরচেনা জৌলুস। 

চট্টগ্রাম থেকে আগত দর্শনার্থী রুপমনাথ বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষক। লালন শাহের জাতপাত নেই। তিনি ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সবাইকে মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছেন। আমরা সবাই একই রক্তের মানুষ। এই শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি।’
ফরিক হৃদয় শাহ বলেন, লালন সাঁইজি দোলপূর্ণিমার তিথিতে সঙ্গীদের নিয়ে দোল উৎসব করতেন। সেই থেকে সাধু পরম্পরা এই উৎসব চলে আসছে। সারাদেশের ভক্তরা ছুটে এসেছে। অষ্টপ্রহর গুরুকার্য ও সাধুসঙ্গ শেষে আমরা নিজ গন্তব্যে ফিরে যাব।
জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মাহে রমজানের কারণে উৎসব সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চলছে লালন স্মরণোৎসব।

আরও পড়ুন

×