ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল

খেয়াল খুশিমতো হাসপাতালে আসেন চিকিৎসকরা, রোগীদের দুর্ভোগ

খেয়াল খুশিমতো হাসপাতালে আসেন চিকিৎসকরা, রোগীদের দুর্ভোগ
×

ফাইল ছবি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৫:৩৭

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল। হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাড়েনি চিকিৎসকের সংখ্যা। অনুমোদিত পদের চারভাগের একভাগ চিকিৎসক দিয়ে চলছে রোগীদের সেবাদান কার্যক্রম। এরমধ্যে নিয়মিত হাসপাতালে আসে না বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ফলে টুঙ্গিপাড়াসহ আশপাশের আরও দুই উপজেলার রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রোগীদের অভিযোগ, টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) থাকলেও নিয়মিত রোগী দেখেন না তারা। হাসপাতালে আসেন নিজেদের খেয়াল খুশিমতো। এ ছাড়া রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিকের টেস্ট রিপোর্ট ছাড়া তারা রোগী দেখেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, বেলা ১১টা ১০ মিনিটে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ২০৭ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করছেন অর্থোপেডিক চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) কাজী করিম নেওয়াজ। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ২০৬ নম্বর কক্ষের শিশু চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) ডা. আমামা আক্তারের কক্ষটি তালাবদ্ধ। পরে তাঁকে মোবাইলে কল দিলে ১১টা ৫০ মিনিটে নিজের কক্ষে আসেন তিনি।

গাইনি চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) ডা. শিপ্রা নন্দীর কক্ষটিও তালাবদ্ধ। কারণ সপ্তাহে দুদিন টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে আসেন তিনি। সেই হিসাবে মাসে মাত্র আটদিন এসে তুলছেন পুরো মাসের বেতন। চক্ষু চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) ডা. আবির মল্লিক হাসপাতালে নেই। আর জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেশিয়া) ডা. মো. শাহজাহানের কর্মক্ষেত্র টুঙ্গিপাড়া হলেও তিনি সবসময় মুকসুদপুরে থাকেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসালটেন্ট ১০টি ও জুনিয়র কনসালটেন্ট ১১টিসহ মোট ২১টি পদের বিপরীতে আছেন পাঁচজন জুনিয়র কনসালটেন্ট চিকিৎসক।

টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী গ্রামের রানা শেখ অভিযোগ করে বলেন, গত রোববার সকালে তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে বসে থেকেও অর্থোপেডিক ডাক্তারের দেখা পাননি। পরে গোপালগঞ্জ শহরে গিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে অর্থোপেডিক চিকিৎসক দেখিয়েছেন। এতে সময় আর টাকা দুটোই অপচয় হয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার কলাতলা গ্রামের আরাফাত হোসেন ও পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার সাচিয়া গ্রামের আবু আমের বলেন, টুঙ্গিপাড়া হাসপাতাল তাদের খুব কাছের। নিয়মিত এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। এখানে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। তারপরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিয়মিত আসেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিয়মিত না থাকায় তারা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন। আমাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী জানান, চিকিৎসকরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। চিকিৎসকদের বলে দেওয়া নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিকের রিপোর্ট ছাড়া, তারা রোগী দেখেন না।

বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আসার বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে অর্থোপেডিক চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) কাজী করিম নেওয়াজ বলেন, এখানে যোগদান করেছেন এখনও এক মাস হয়নি। বেতন ভাতা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে একটু দেরি হয়েছে আসতে।

শিশু কনসালটেন্ট আমামা আক্তার জানান, ‘একটু শরীর খারাপ থাকায় দেরি হয়েছে।’ অপরদিকে গাইনি চিকিৎসক  শিপ্রা নন্দী, চক্ষু চিকিৎসক আবির মল্লিক ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেশিয়া) মো. শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এ কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসব বিষয়ে প্রথমে চিকিৎসকদের পক্ষে সাফাই গেয়ে পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদ। তিনি জানান, অর্থোপেডিক চিকিৎসকের বাসা দূরে হওয়াতে আসতে একটু দেরি হয়। আর শিশু ও চক্ষু চিকিৎসক ছুটির আবেদন করেছেন।

জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেশিয়া) মো. শাহজাহানের মূল কর্মস্থল টুঙ্গিপাড়া হলেও আগের সিভিল সার্জনের নির্দেশে তিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে থাকেন। টুঙ্গিপাড়া আসেন না। অনিয়মিত চিকিৎসকদের সতর্ক বার্তা দেওয়ার পর ‘ঠিক’ না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×