ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

খুলনা ওয়াসা

সেবা নিয়ে অভিযোগ থাকলেও বাড়ছে পানির দাম

১০ বছরে দাম বাড়ানো হয়েছে আটবার

সেবা নিয়ে অভিযোগ থাকলেও বাড়ছে পানির দাম
×

 হাসান হিমালয়, খুলনা 

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারপাড়া গলির বাসিন্দা সুমন সাহা ওয়াসার গ্রাহক। ওয়াসার পানি নিয়ে প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।
সমকালকে সুমন বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে পানি শেষ হয়ে যায়। বিকেলে কখনও পাই, আবার কখনও পাই না। মাঝে মাঝে কোনো নোটিশ ছাড়াই পানি বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প উৎস না থাকায় তখন বিপাকে পড়তে হয়। অথচ প্রতি মাসেই নিয়মিত বিল পরিশোধ করি। 

সুমন সাহার মতো পানি সমস্যায় ভোগেন ওই এলাকার বেশির ভাগ বাসিন্দা। নিয়মিত মূল্য পরিশোধ করলেও পানি নিয়ে দুর্ভোগের শেষ নেই তাদের।
তবে সেবার মান নিয়ে অভিযোগ থাকলেও নিয়মিতভাবেই পানির দাম বাড়াচ্ছে খুলনা ওয়াসা। গত ১০ বছরে আটবার পানির দাম বাড়িয়েছে তারা। এর মধ্যে গত বছর জুন মাসে একলাফে ১০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছিল সংস্থাটি। এর ৯ মাস যেতে না যেতেই দাম বাড়ানো হয়েছে আরও ৫ শতাংশ। গত ১ মার্চ থেকে এই বিল কার্যকর হওয়া শুরু হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট (এক হাজার লিটার) পানি ব্যবহারের জন্য দিতে হবে ১০ টাকা ৩৮ পয়সা। এর সঙ্গে রয়েছে সার্ভিস চার্জ, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট। নগরীতে ওয়াসার গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার।

খুলনা ওয়াসা থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি চার টাকা ইউনিট ধরে পানির নতুন মূল্য তালিকা অনুমোদন করে ওয়াসা বোর্ড। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি পানির দাম ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে দাম আরও ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়। এভাবে আট দফা বাড়িয়ে সর্বশেষ দর নির্ধারণ করা হয় ৯ টাকা ৮৮ পয়সা। ১ মার্চ থেকে এটি বেড়ে হবে ১০ টাকা ৩৮ পয়সা।
সেবার মান না বাড়িয়ে দাম বৃদ্ধির উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনার নাগরিক নেতারা। খুলনা সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, গ্রাহকসেবা আইন অনুযায়ী সেবার দাম বৃদ্ধির আগে অবশ্যই গণশুনানি করতে হবে। ওয়াসা কখনও এই শুনানি করে না। নতুন মূল্য কার্যকর হলে মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, আয় বাড়ানোর জন্য পানির দাম না বাড়িয়ে ওয়াসার উচিত নিজেদের খরচ কমানো। গ্রাহকদের স্বস্তিতে রাখা।

নগরীর নিরালা এলাকার বাসিন্দা আবদুস সোবহান বলেন, কয়েক মাস আগে পানিতে ময়লা আসা শুরু হলে ওয়াসায় যোগাযোগ করি। দুই দিন পর ওয়াসার কর্মীরা এসে বলেন, ‘সড়কের কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদার পানির পাইপ ফাটিয়ে ফেলেছে, তাদের বলেন।’ ঠিকাদারকে জানালে তিনি বলেন, ‘ওয়াসাকে বলেন ঠিক করে দিতে, খরচ আমি দিয়ে দেব।’ এই করে সাত-আট দিন দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। সেবা পেতে ভোগান্তি পোহালেও দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের মনে হয় নিয়ম মানতে হয় না।

খুলনা ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক এম খাদেমুল ইসলাম বলেন, ঢাকা ওয়াসায় প্রতি ইউনিট পানির মূল্য ১৬ টাকা ৭০ পয়সা, চট্টগ্রাম ওয়াসায় ১৮ টাকা। সেখানে খুলনায় প্রতি ইউনিটের দাম মাত্র ৯ টাকা ৮৮ পয়সা। সব বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকভাবেই পানির মূল্য বাড়ানো হয়েছে।
খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) ঝুমুর বালা বলেন, অন্যান্য শহরের তুলনায় খুলনা ওয়াসার পানির দাম কম। সেই তুলনায় ওয়াসার খরচ অনেক বেশি। সরকারের পয়ঃনিষ্কাশনে আইনে রয়েছে বোর্ড অনুমোদন করলে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো যাবে। আইন মেনেই দাম বাড়ানো হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×