শিশুদের পার্কে মেলা বসাতে এবার জামায়াত সমর্থিতদের আবেদন
নতুন খেলনা স্থাপন, মাটি ভরাট ও সংস্কার কাজ চলছে খুলনার জাতিসংঘ শিশু পার্কে সমকাল
হাসান হিমালয়, খুলনা
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ | ০৯:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনা মহানগরীর তারেকপুকুর মোড়ে জাতিসংঘ শিশু পার্কে প্রতিদিন বিকেলে শিশু-কিশোরদের মিলনমেলা বসে। এটি নগরীর একমাত্র উন্মুক্ত শিশু পার্ক। অতীতে বিভিন্ন সময় পার্কে মেলার আয়োজন করে দিনের পর দিন খেলাধুলা বন্ধ রেখে মোটা অংকের মুনাফা গুনতেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
গত বছর বিএনপি, ছাত্র সমন্বয়কসহ ৭টি সংগঠন পার্কে ঈদে মেলা বসানোর আবেদন করে। এ নিয়ে সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর পার্কে সব ধরনের মেলা বন্ধ করে দেয় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। সেখানে শিশুদের জন্য নতুন খেলনা স্থাপন, মাটি ভরাট, সব খেলনা রং ও সংস্কারে কাজ চলছে। আপাতত বন্ধ থাকলেও ঈদের আগে দশনার্থীদের জন্য পার্কটি খুলে দেওয়া হবে।
সেই পার্কে এবার ১০ দিনব্যাপী ঈদ মেলা আয়োজনের অনুমতি চেয়েছে টাইফুন শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটি জামায়াত সমর্থিত হিসেবে পরিচিত। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তারা আবেদন জমা দেয়। তবে মেলার অনুমতির বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি কেসিসি।
খুলনা মহানগরীতে কেসিসির পার্ক রয়েছে ৬টি। এর মধ্যে গোলকমণি, নিরালা ও সোনাডাঙ্গা শিশু পার্ক শুধু নামেই আছে। হাদিস পার্কে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন কর্মসূচির আয়োজন করে। সেখানে শিশুদের খেলার পরিবেশ নেই। খালিশপুর শিশু পার্কটি ইজারা দেওয়া। অতিরিক্ত প্রবেশমূল্যের কারণে সেখানে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা প্রবেশের সুযোগ পায় না। একমাত্র জাতিসংঘ শিশু পার্কে শিশুসহ সব বয়সের নারী-পুরুষ ভিড় করেন। কিন্তু দুই ঈদসহ বছরের বিভিন্ন সময় পার্কটি ইজারা দেওয়া হয়। তখন খেলাধুলা বন্ধ থাকে। এ ছাড়া পার্কের এক পাশে একটি বেসরকারি হাসপাতাল, অন্য পাশে মসজিদ আছে। পার্কে বিকট শব্দে অনুষ্ঠান চললে রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত এবং মুসল্লিরা বিরক্ত হন। মেলা বসালে খেলনা, মাঠ সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কেসিসির কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক তদবিরের কারণে মাঝে মাঝে নামমাত্র মূল্যে পার্ক ইজারা দেওয়া হয়। এরপর সংগঠনগুলো ১০-১২ লাখ টাকায় সেই ইজারাপত্র মেলার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। সব মিলিয়ে ১০ দিনের ঈদ মেলায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার বাণিজ্য হয়। অতীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকরা এসব টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করতেন।
সূত্র জানায়, ২২ জানুয়ারি টাইফুন শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক নুরুজ্জামান নোমান ১০ দিনব্যাপী মেলা আয়োজনের জন্য অনুমতি চেয়ে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। আবেদনটি এখন বৈষয়িক কর্মকর্তার টেবিলে। তিনি প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন।
মোবাইল ফোনে বৈষয়িক কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘কয়েক দিন আগে মুকুল নামে এক ব্যক্তি ফোন করে দ্রুত অনুমতির ফাইল রেডি করতে চাপ দেন। খুলনা-২ আসনের এমপির নামও ব্যবহার করেন। তাঁকে বলেছি, এটি প্রশাসকের এখতিয়ার।’
খুলনা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। আমি বলেছি, আমি কোনো সুপারিশ করতে পারব না।’
তিনি বলেন, ‘ওই পার্কে আগেও মেলা, অনুষ্ঠান, নাচ-গান হয়েছে। টাইফুন ওদের মতো করে মেলা বা অনুষ্ঠান করার আবেদন করেছে। যেখানে একটি জিনিস হচ্ছে, সেখানে অন্যরাও তো সেই জিনিসের আবেদন করতে পারে। কেসিসি যদি কাউকে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ওরাও করবে না।’
কেসিসির নবনিযুক্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘মেলায় নানা আপত্তিকর কাজ হয়; নষ্ট হয় শিশুদের খেলার পরিবেশ। জাতিসংঘ পার্কের মেলায় একজন খুনও হয়েছে। আমি এসব মেলা চাই না।’
- বিষয় :
- শিশু পার্ক
