চলতেন ছাদখোলা জিপে করতেন টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ
অবশেষে যুবলীগের কালা শওকত ডিবির হাতে গ্রেপ্তার
শওকত হোসেন
হাসান হিমালয়, খুলনা
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেলের বডিগার্ড হিসেবে তাঁর উত্থান। এরপর পদ পান নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতির। পরের সাড়ে ১৫ বছর টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজির সঙ্গে শওকত হোসেনের নামটি একাকার হয়ে গিয়েছিল। বলা হয়, খুলনার শেখ বাড়িকে ডোবাতে যারা ভূমিকা রেখেছেন, সবার ওপরে ছিল তাঁর নাম। এই বাড়ির নাম ভাঙিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভ্যুত্থানের আগেই সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা হয়।
অবশেষে আত্মগোপনে থাকার দেড় বছর পর গ্রেপ্তার হয়েছেন এই যুবলীগ নেতা। গত ৫ মার্চ গভীর রাতে তাঁকে ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামার বিহারি কলোনির মোড়ের বাসিন্দা মৃত আবদুল আলিমের ছেলে শওকত হোসেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান শওকতের ভাগ্য খুলে যায় শেখ সোহেলের সঙ্গে থাকার সুযোগ পেয়ে। এরপর টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিতে মেতে ওঠেন। খুলনার সব কয়টি বাণিজ্য মেলা, বড় মার্কেট, বাস টার্মিনালে নিয়মিত চাঁদা তুলতেন শওকত। শেখ সোহেলের সঙ্গে থাকার কারণে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতারাই তাঁকে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্ত বিভাগের এক ঠিকাদার বলেন, পূর্ত বিভাগের কাজ শেখ সোহেল ভাগ করে দিতেন। ২০১২ সালে তিনি বিদেশে থাকায় কে কাজ নেবে– এটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তাই টেন্ডার জমা দিই। বিকেলে শওকত বাড়ি আসে। স্ত্রী-সন্তানের সামনে আমাকে মারতে মারতে তুলে নিয়ে যায়। পরে গণপূর্ত অফিসের ভেতরে নিয়ে টেন্ডার প্রত্যাহারের কাগজে স্বাক্ষর করে ছেড়ে দেয়।
আরেক ঠিকাদার বলেন, ম্যানুয়াল টেন্ডারের সময় তার পাহারা থাকত। খুলনার গণপূর্ত-২-এ তাদের পছন্দের বাইরে টেন্ডার জমা দেওয়ায় শওকত টেন্ডার বাক্স ভেঙে শিডিউল ও কাগজ কেড়ে নিয়েছিলেন।
২০১৪ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানি সামজিন লিমিটেডের মাধ্যমে ৩৩ হাজার টন গম আমদানি করে সরকার। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের অপেক্ষায় থাকা এ গম খালাসের কাজ পায় শওকতের মামার প্রতিষ্ঠান জি কে শিপিং। প্রায় ৯০ কোটি টাকা মূল্যের ওই গম কালোবাজারে বিক্রি করে দেন শওকতসহ অন্যরা।
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম বলেন, খুলনার শেখ বাড়ির খুব আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি ছিল শওকত হোসেনের। আওয়ামী সরকার পতনের পর শওকত পলাতক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- বিষয় :
- টেন্ডার
