ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জ-৩ আসন

বিদ্রোহী-বিরোধীদের সামলে ৪৬ বছর পর বিএনপির জয়

বিদ্রোহী-বিরোধীদের সামলে ৪৬ বছর পর বিএনপির জয়
×

 জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০২ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ | ১০:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

শক্তিশালী দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী, সেই সঙ্গে বিরোধীদলীয় হাইভোল্টেজ প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের বিপরীতে প্রবাসী তরুণের হাতে ধানের শীষ। শেষ পর্যন্ত সব প্রতিবন্ধকতা উতরে বিজয়; যার মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ৪৬ বছর পর সুনামগঞ্জ-৩ আসনটি নিজেদের করে নেয় বিএনপি। নির্বাচন শেষ হলেও এ নিয়ে এখনও হাটে-বাজারে, অবসরে স্থানীয়রা নানা কথা আর আলোচনা জুড়ছেন।
স্থানীয় প্রবীণ রাজনীতিবিদদের একাংশ জানান, দলের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে শক্তিশালী নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। যেখানে দলের নেতাকর্মীরা ছিলেন দোটানায়। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি নয়, ধানের শীষে ঐক্যবদ্ধ হন তারা। এরপরেও জটিল হিসাবে ভোট-ব্যালটের যুদ্ধে তরুণ প্রবাসী প্রার্থী দিয়ে বিএনপি বিজয় নিশ্চিত করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল অনেকের মনেই। সেই দুর্বলতাই শক্তি হয়ে ওঠে। তারুণ্যই হয়ে ওঠে ধানের শীষের প্রধান শক্তি। তরুণ প্রার্থী আর ভোটারদের বড় অংশই ছিল তরুণ বা নবীন ভোটার। শেষ পর্যন্ত তারুণ্যের জয় হয়। 

এভাবেই তৃণমূলের বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিরা সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের বিজয়ের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কয়ছর আহমদ হলেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ান দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি।

অন্যদিকে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্র চেয়েছিল জামায়াত। বিএনপির টালমাটাল অবস্থায় জোট সমর্থিত প্রার্থী খেলাফত মজলিসের সাবেক এমপি মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরীর জয়ের আশা করেছিল তারা। শুধু তাই নয়, পাশাসহ তিনজন হাইভোল্টেজ প্রার্থীকে টেক্কা দিতে হয় তরুণ নেতা কয়ছরকে। শেষ পর্যন্ত মেধা, তারুণ্য এবং প্রজন্মের নার্ভ ধরতে পারাই কয়ছরের জয় নিশ্চিত করে–এমনটাই দাবি বিএনপি নেতাকর্মীদের।

দীর্ঘ ৪৬ বছর পর বিজয়ী হয়ে রেকর্ড গড়লেন সাংসদ মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই নির্বাচনী এলাকা আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে পরিচয় পায়। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে দলের বহিষ্কৃতদের নিয়ে সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আক্তার হোসেন আলাদা বলয় গড়ে নির্বাচনে অংশ নেন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে। তবে শেষ মুহূর্তে ঘুরে যায় প্রেক্ষাপট।
এমপি মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেন, তরুণ প্রজন্ম আস্থা রেখেছে তাঁর ওপর। তাদের সঙ্গে নিয়ে আগামীর জন্য শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়াই তাঁর লক্ষ্য। উন্নয়নের ক্ষেত্রে দলের আগে দেশ। এর পর অন্যসব। একটা শক্তিশালী বাংলাদেশ তারেক রহমানের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন

×