রং-পলিশে ঢেকেছে লক্কড়-ঝক্কড় বাস
নাটোরের হরিশপুরের একটি কারখানায় শুক্রবার বাস মেরামতে ব্যস্ত কয়েকজন শ্রমিক সমকাল
নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নাটোরে সরগরম হয়ে উঠেছে বাসের বডি তৈরির ওয়ার্কশপগুলো। বাইরে থেকে দেখে চেনার উপায় নেই যে, চকচকে রঙের প্রলেপের নিচে লুকিয়ে রয়েছে জরাজীর্ণ আর ফিটনেসবিহীন ইঞ্জিন। যাত্রীদের দৃষ্টি কাড়তে এবং ঈদ মৌসুমে বাড়তি আয়ের আশায় লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলোকে নতুন রূপে সাজিয়ে মহাসড়কে নামানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন পরিবহন মালিকরা। এতে আনন্দযাত্রা বিষাদে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি দেখছে সচেতন মহল।
নাটোর পৌর এলাকার বড়হরিশপুরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০টি কারখানায় এখন নাওয়া-খাওয়া নেই শ্রমিকদের। জং ধরা বডি ঝালাই করা, সিট মেরামত এবং চোখ ধাঁধানো রং করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। নাটোর থেকে চলাচল করবে এমন শতাধিক যাত্রীবাহী বাস।
শ্রমিক পারভেজ জানান, ঈদ উপলক্ষে পুরোনো গাড়িগুলোকে ‘ভিআইপি’ লুক দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে মালিকদের পক্ষ থেকে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে এই নতুন করার কাজ। মূলত ভাঙাচোরা গাড়ি দেখে যাতে যাত্রীরা ভয় না পান, সেজন্যই এই ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রলেপ।
আরেকটি কারখানার শ্রমিক সুলতান আলী জানান, ঈদ সামনে, যাত্রীর চাপ বাড়বে। তারা যাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন সে লক্ষ্যে সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা, ১০টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। ঈদের পাঁচদিন আগে দুটি গাড়ি ডেলিভারি দিতে হবে।
নাটোর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির তথ্যমতে, ঈদ উপলক্ষে নাটোর থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে এবং অভ্যন্তরীণ পথে ৩০০টির বেশি বাস চলাচল করবে। মালিক সমিতির সভাপতি লক্ষ্মণ পোদ্দার দাবি করেন, কোনো লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি নামানো হবে না। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পুরোনো গাড়ি মেরামত করে নতুন সাজে নামানোর দৃশ্যই বলে দিচ্ছে মহাসড়কে ঝুঁকির মাত্রা।
নাটোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি শহীদুল হক সরকার বলেন, যাত্রীচাপের সুযোগে বেপরোয়া গতি ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণে ঈদ আনন্দ যেন বিষাদে রূপ না নেয়, সেদিকে নজরদারি জরুরি।
সড়কে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয়দের মধ্যে। দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে মহাসড়কে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ের করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৫৭টি মামলা।
ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান জানান, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন বাস এবং থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধে নিয়মিত চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। বাসে চুরি-ডাকাতি রোধে ভিডিও ধারণ ও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যাত্রী আশরাফুল ইসলামসহ অনেকেরই দাবি, শুধু গাড়ির বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে নয়, ইঞ্জিনের সক্ষমতা ও চালকদের দক্ষতা যাচাই করা প্রয়োজন। বাসের ছাদে যাত্রী তোলা এবং অতিরিক্ত গতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ যেন কোনোভাবেই সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ম্লান না হয়ে যায়, সেজন্য মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে কঠোর তদারকি এখন সময়ের দাবি।
- বিষয় :
- গাড়ি
