ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন 

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন 
×

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান

শিবপুর (নরসিংদী) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১৯:১৮ | আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১৯:২০

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মরদেহ নরসিংদীর শিবপুরে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। সোমবার দুপুর দুইটায় মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। 

জানাজায় অংশ নেন নরসিংদী জেলা সদর আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী, নরসিংদী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিস রিকাবদার কালা মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা সাবেক অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান খান, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু সালেহ রিকাবদার,সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহজাহান, মরহুমের ছেলে নওশাদ আলী খানসহ এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।  

জানাজায় নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার বলেন, সাখাওয়াত আলী খান আমাদের এলাকার জন্য একটি রত্ম ছিলেন। আমরা একজন গুণি মানুষকে হারালাম। 

সাবেক অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান খান বলেন, আমরা একজন প্রথিতযশা সাংবাদিককে হারালাম। 

 নরসিংদীর শিবপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়

শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিস রিকাবদার কালা বলেন, অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ভালো লোক ছিলেন। তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন।

সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহজাহান বলেন, অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ছিলেন আদর্শবান সাংবাদিক। তিনি আমাদের এলাকার গর্ব ছিলেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে রোববার রাতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। সোমবার বেলা সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয় জাগ্রত রাখতে চায়। অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মরদেহ দাফন করা হবে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে। 

জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি সাখাওয়াত আলী খানের স্ট্রোক হয়। তখন কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রোববার রাতে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করা হয়।

২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অবসরে যান অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান। এরপর তিনি সেখানে পাঁচ বছর সংখ্যাতিরিক্ত (সুপার নিউমারারি) অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি বিভাগটির ‘অনারারি প্রফেসর’ ছিলেন। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৪১ সালে অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশায় আসার আগে প্রায় এক দশক তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট-এর চেয়ারম্যান ছিলেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ১৫টি দেশের বিভিন্ন সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করেছেন। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর ৩০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণার প্রিয় বিষয় ছিল ‘সাংবাদিকতা ও রাজনীতির মিথস্ক্রিয়া’।

তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন

×