ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

খড় আর ধানের তুষ এনে দিয়েছে সচ্ছলতা

খড় আর ধানের তুষ এনে দিয়েছে সচ্ছলতা
×

রংপুর নগরীর নীলকণ্ঠ এলাকায় ৫০টি বীজের প্যাকেট দিয়ে যাত্রা শাওন ইসলামের‍। সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ তাঁকে দিয়েছে সফল উদ্যোক্তার পরিচয় সমকাল

 রংপুর অফিস

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

আকাশছোঁয়া স্বপ্ন আর হাতে ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট– তবুও ভাগ্যের চাকা ঘুরছিল না শাওনের। সংসারের অভাব আর ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার চিন্তায় যখন দিশেহারা অবস্থা, ঠিক তখনই খড় আর ধানের তুষের মাঝে তিনি খুঁজে পান আশার আলো। মাত্র ৫০টি বীজের প্যাকেট দিয়ে শুরু করা সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ তাঁকে দিয়েছে সফল উদ্যোক্তার পরিচয়।
শাওন ইসলাম রংপুর নগরীর নীলকণ্ঠ এলাকার নাজিম উদ্দিন-শাহানা বেগম দম্পতির সন্তান। রংপুর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ২০২১ সালে ডিপ্লোমা করেন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও যখন চাকরি পাচ্ছিলেন না, তখন হতাশ না হয়ে বেছে নেন মাশরুম চাষকে। যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ আর নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে ২০২২ সালে শুরু করেন এই যাত্রা। আজ তাঁর ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরটিই হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার এক বিশাল ক্ষেত্র।

রংপুরের বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টার থেকে আনা ঝিনুক মাশরুমের (ওয়েস্টার) ৫০টি স্পন দিয়ে শুরু করা ঝুপড়িঘরে এখন ৩০০ স্পনে মাশরুম উৎপাদন হচ্ছে। শাওনের এই মাশরুম খামার এখন লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বার্ষিক উৎপাদন প্রতি ব্যাচে (দেড়-দুই মাসে) প্রায় ১০০ কেজি মাশরুম। ৪০০ টাকা দরে প্রতি ব্যাচে আয় ৪০ হাজার টাকা। বছরে ছয়টি ব্যাচে মাশরুম থেকে আয় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া নিজের উৎপাদিত স্পন (বীজ) বিক্রি করে বছরে আরও প্রায় ১ লাখ টাকা আয়।
শাওন শুধু মাশরুম উৎপাদনই করেন না, বরং বীজ তৈরি থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত করা ও পৌঁছে দেওয়ার কাজ নিজেই করেন। তাঁর ‘আপন সংসার’ নামক ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এখন সারাদেশেই কুরিয়ারে পৌঁছে যাচ্ছে এই মাশরুম ও বীজ।

শাওন ইসলাম বলেন, অল্প পুঁজি, কম জায়গা আর সামান্য পরিশ্রমে মাশরুম চাষ আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
ছোট ভাই নাইমুন জান্নাত নয়ন, যার পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে ছিল, সে এখন বড় ভাইয়ের সাফল্যে গর্বিত এবং নিজেও উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সংসারে স্বচ্ছলতা আসায় মা শাহানা বেগমও খুশি। ছেলের কাজে মাঝে মাঝে সহায়তা করেন তিনি। ক্রেতাদের মতে, মাশরুম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণসম্পন্ন খাবার। শাওন জানান, এই মাশরুম সাধারণ ফ্রিজে ৭-১০ দিন এবং শুকিয়ে সাত-আট মাস সংরক্ষণ করা সম্ভব।
শাওন ইসলাম প্রমাণ করেছেন, ডিগ্রি থাকলেই চাকরির পেছনে ছুটতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সঠিক পরিকল্পনা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে ঘরের কোনে মাশরুম চাষ করেই বেকারত্ব ঘোচানো সম্ভব। আজ তিনি রংপুরের তরুণদের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
 

আরও পড়ুন

×