জ্বালানি তেল পাচার রোধে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির নজরদারি জোরদার
ছবি : সংগৃহীত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ২৩:২৩
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নাফনদী ও স্থলপথে নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
পাশাপাশি সীমান্তবর্তী চেকপোস্টগুলোতে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে এবং নাফনদী ও সাগরে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলোকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি বহন না করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটে নাফনদীতে বিজিবির নৌ-টহল পরিদর্শনকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান টেকনাফ ২-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশংশীর নাকীব তরফদার ও নৌ-প্লাটুন কমান্ডার (নেভি) লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকা দিয়ে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা থাকায় বিজিবি টেকনাফ সীমান্তজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে। স্থলপথের চেকপোস্টগুলোতে বিশেষ তল্লাশি, নাফনদীতে নৌ-টহল বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি, যানবাহন ও নৌযানের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পাচারের সম্ভাব্য রুটগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যমান চেকপোস্টের পাশাপাশি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন, সীমান্ত এলাকায় টহল বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই জ্বালানি তেল পাচার বা অবৈধ পরিবহন সম্ভব না হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, কিছু মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযান কম জ্বালানি নিয়ে প্রবেশ করে স্থানীয় রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে ট্যাংক পূর্ণ করে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করে পাচারের চেষ্টা করে। এসব অনিয়ম ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পাম্প ও স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি ও সরবরাহ তদারকিতে বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি তেলের মজুত সংরক্ষণ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও যানবাহনের ধরণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে।
- বিষয় :
- জ্বালানি তেল
- টেকনাফ
- পাচার
- বিজিবি
