ভুয়া বিল ভাউচারে সাড়ে ৫ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৫৬ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সমঝোতায় মালপত্র না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচারে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ধরনের উপকরণ কেনার জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের সাইন্স ল্যাবের নানা রাসায়নিক, বইপুস্তক, গবেষণা সরঞ্জামাদি, শিক্ষা উপরকণ, ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহ করার কথা ছিল। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২২ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পায় নেত্রকোনার মেসার্স ইউনিপ্যাক এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সাত দিনের মধ্যে উপকরণ সরবরাহ করতে বলা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আল আমিন নামে এক ব্যক্তি। উপকরণ বুঝে নিতে নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সমন্বয়ে কয়েকটি উপকমিটি করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সমঝোতা করে উপকরণ না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচার জমা দেন ঠিকাদার। ক্রয়-সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্যদের কাছ থেকে উপকরণ বুঝে পাওয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারকে উপকরণ সরবারহের প্রত্যয়নপত্র দেন প্রধান শিক্ষক। ওই প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে চার লাখ ৮০ হাজার ২৫৫ টাকার বিল তুলে নেন ঠিকাদার।
একাধিক শিক্ষক জানান, ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার। অথচ একটি উপকরণও কেনা হয়নি। ক্রয়-সংক্রান্ত উপকমিটিতেও প্রধান শিক্ষকের আস্থাভাজনদের রাখা হয়েছে।
ক্রয়-সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্য আজিজুল হকের ভাষ্য, কমিটির সদস্য হলেও এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। কোনো মালপত্রও বুঝে পাননি। প্রধান শিক্ষকের কথামতো স্বাক্ষর করেছেন মাত্র।
ঠিকাদার আল আমিন বলেন, ‘যথাযথ নিয়মে কমিটির সামনে সব মালপত্র বুঝিয়ে দিয়ে প্রত্যয়ন নিয়ে টাকা উত্তোলন করেছি। নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।’
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদের ভাষ্য, উপকরণ কেনার দরপত্র হলেও ঠিকাদার কোনো উপকরণ দেননি। খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিছু টাকা খরচ হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষক তাঁকে ফাঁসাতে এই কাজ করেছেন।
ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক মোহা. নাসির উদ্দীন বলেন, দরপত্র অনুযায়ী ঠিকাদার বিদ্যালয়ে মালপত্র সরবরাহ করবেন। নগদ টাকা উত্তোলন নিয়মবহির্ভূত। এই বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
