ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছাত্রশক্তির সেই নেতার গ্রামের বাড়িতে আগুন

ঢাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ

ছাত্রশক্তির সেই নেতার গ্রামের বাড়িতে আগুন
×

সাইফুল্লাহর বাড়ি পরিদর্শন করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ০৫:১৮

এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর গ্রামের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নে ডোমগাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাইফুল্লাহ ওই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।

গত ৮ মার্চ রাতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। মারধরের পর তাকে শাহবাগ থানায় রেখে আসা হয়। ওই সময় তাকে নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন ছাত্রশক্তির নেতা সাইফুল্লাহ। পোস্টে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ পরবর্তী সময়ে তিনি এই ফেসবুক পোস্টটি তাঁর আইডি থেকে মুছে করে ফেলেন।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৩টার দিকে দুষ্কৃতকারীরা সাইফুল্লাহর বাড়ির লাকড়ির ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের তীব্রতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করলেও পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিক টের পেয়ে নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জেলা ছাত্রশক্তির সংগঠক আলী হোসেন বলেন, ‘ভোররাতে খবর পেয়ে আমরা সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুষ্কৃতকারীরা শুধু লাকড়ির ঘরে আগুন দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা সাইফুল্লাহর বসতঘর কুপিয়ে একপাশের বেড়া ভেঙে ফেলেছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

সাইফুল্লাহ বলেন, ‘রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে আমার বাড়ির একটি রান্নাঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং বসতঘরে কুপিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বসতঘরের আগুন বড় হওয়ার আগেই নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।’ তিনি এ ঘটনায় ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বলেন, ‘কাজটি আওয়ামী লীগ করেছে।’ এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান সাইফুল্লাহ।

সকালে সাইফুল্লাহর বাড়ি পরিদর্শন করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সার্কেল এসপির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সাইফুল্লাহর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

খবর পেয়ে ভোরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাইফুল্লাহর ভাই জয়নাল আবেদীনের বক্তব্য অনুযায়ী, লাকড়ির একটি ঘরে আগুন লাগে। এ ছাড়া বসতঘরের টিনের বেড়ায় তিনটি কোপের দাগ দেখেছি এবং টিন কেটে গেছে। তারা নিজেরাই আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×