ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতি
ভোট গণনার মাঝেই নির্বাচন স্থগিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনের ভোট গণনার মাঝখানে ফলাফল ঘোষণাসহ নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আবদুল মালেকের ভাষ্য, ভোটের ফলাফল প্রকাশের অনুকূল পরিবেশ ছিল না। একটি প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুর রহমানের দাবি, ত্রুটিপূর্ণ ব্যালট পেপারের কারণে ভোটারের গোপনীয়তা ক্ষুণ্নের আশঙ্কা দেখা দেয়। এ বিষয়ে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা ও নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬ সালে কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হয়। ৬৮৮ সদস্যের মধ্যে ৬৫৪ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাছাই শেষে সন্ধ্যার পর ভোটগণনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ২২৫টি ভোট গণনা করা হয়। এতে সভাপতি পদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মফিজুর রহমান বাবুল ১১৭টি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান ১০২ ভোট পান। সাধারণ সম্পাদক পদেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে আবদুল হাই পান ১১১ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মঞ্জু ৭৮ ভোট পান।
এদিকে শান্তিপূর্ণ ভোট গণনার সময় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর চন্দ্র ঘোষ লিখিত আবেদনে ব্যালট ও মুড়িতে (কাউন্টার পার্ট) একই ক্রমিক নম্বর থাকায় ভোটারের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে ফলাফল ঘোষণা ও নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেন। একই দাবিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আরেকটি আবেদন করেন। এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা ছাড়াও আবদুর রহমান ও আনিসুর রহমান মঞ্জুর প্যানেলের পক্ষের আইনজীবী সমর্থক ছাড়াও বহিরাগত ব্যক্তিরা ভোট গণনা কক্ষে হইহুল্লোড় শুরু করেন। তখন পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মফিজুর রহমান বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হবে।
রাত পৌনে ৯টার দিকে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা আইনজীবী ভবনের সামনে অবস্থান নেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রাকিব উর রাজার নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একদল পুলিশ সদস্য বার ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভোট গণনাস্থলে আসেন। তখনও আইনজীবীরা ও বহিরাগত সমর্থকদের মধ্যে সেখানে হট্টগোল চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক মাইকে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করেন।
আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির এই নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫ পদে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘যা ঘটেছে তা আপনাদের চোখের সামনেই হয়েছে। কী বলব, এটি বারের জন্য অবশ্যই কলঙ্কজনক ঘটনা হয়ে থাকবে। ভোট গণণাকালে আমার বিজয় নিশ্চিত ভেবেই কৌশলে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সাধারণ আইনজীবী ভোটারদের অধিকারকে অসম্মানিত করা হয়েছে। আমার আর কিছু বলার নেই।’
তবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুর রহমানের দাবি, ব্যালটে ত্রুটি থাকায় ভোটারদের গোপনীয়তা ভঙ্গ করা হয়েছে– এসব জানিয়ে আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ভোট গণনার পরিবেশ ছিল না কথাটি সঠিক নয়। এখানে ভয়ভীতি বা হুমকির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মালেকের ভাষ্য, ‘২০০ ভোট গণনার পর তারা এসে ত্রুটিপূর্ণ ব্যালটের কথা বলে নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। ত্রুটি থাকলে তারা প্রথমেই আপত্তি জানাতে পারতেন। ভোট গণনার পরিবেশ না থাকায় নির্বাচন স্থগিত করেছি। এ ঘটনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া বারের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। আগামী ১৫ তারিখ সমিতির অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।’
- বিষয় :
- আইনজীবী সমিতি
