ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফসলের মাঠ থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন

ফসলের মাঠ থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন
×

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফসলের মাঠে দুদিন ধরে জমে থাকা বৃষ্টির পানি জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) উদ্যোগে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ডিসির উপস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবীরা একটি মাঠ থেকে পানি নেমে যাওয়ার পথ পরিষ্কার করে দেন। 

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার জয়পুরহাটের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি ও ঝড় হয়। এতে পানির নিচে তলিয়ে যায় জেলার কালাই উপজেলার অধিকাংশ ফসলের মাঠ। আলু উত্তোলনের শেষ মুহূর্তে বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চাষিদের মনে দুশ্চিন্তা ভর করে। এলাকায় পানিপ্রবাহের পথ ভরাট হয়ে যাওয়ায় ওপর থেকে পানি নিচে এসে আলু, গমসহ অন্যান্য ক্ষেত তলিয়ে যায় বলে অভিযোগ চাষিদের। এ নিয়ে গত শুক্রবার ‘হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে আলুচাষির সর্বনাশ’ শিরোনামে সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। 

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরাকে নিয়ে কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া বাইগুনী গ্রামে ফসলের মাঠে যান। ডিসির আহ্বানে সেখানে উপস্থিত হন স্বেচ্ছাশ্রমে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত বিডিক্লিন নামে সংগঠনের কর্মীরা। আরও ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিমাই চন্দ্র, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ, উদয়পুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ ইউপি সদস্যরা। 
বিডিক্লিনের জয়পুরহাট জেলা সমন্বয়ক রাকিব হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের আহবানে আমরা  কালাই উপজেলার তালোড়া বাইগুনী গ্রামের মাঠে বৃষ্টির পানির গতিপথ ফেরাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছি। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’ 

ওই মাঠের চাষি মেজবাহুল ইসলাম বলেন, ‘আজ ডিসি সাহেব নিজে এসে যে কাজ করলেন, তা এই এলাকার চাষিদের সারাজীবন মনে থাকবে। মনে রাখার মতো কাজ করলে তা অবশ্যই মনে থাকবে।’ 
জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া বলেন, বিশেষ করে কালাই উপজেলার তালোড়া বাইগুনীতে ফসলের মাঠে বেশি পানি জমে ছিল। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জমে থাকা পানি নেমেও যাচ্ছে। এখন আর ফসলের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।’ 
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কালাই উপজেলার আঁওড়া, হাতিয়র, তালোড়া বাইগুনী, কালিমহুর, ঝামুটপুর, বানিহারাসহ বিভিন্ন মাঠে বৃষ্টির পানি জমে ফসল তলিয়ে যায়। উঁচু এলাকা থেকে পানি গড়িয়ে নিচে এসে জমতে থাকে। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। দীর্ঘদিন ধরে যে পথ হয়ে পানি পারাপার হতো, সেইসব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ফসল রক্ষার্থে মাঠে শ্যালো মেশিন বসিয়ে জমে থাকা পানি সেচ দিয়েছেন। কেউ কেউ পরিবারের সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে থালা-বাসন দিয়ে সেচ দিয়েও ফসল রক্ষা করতে পারেনি। বড় লোকসানের শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন চাষিরা।

আরও পড়ুন

×