ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সিলেট-সুনামগঞ্জে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি

ধান নিয়ে চিন্তিত কৃষক

সিলেট-সুনামগঞ্জে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি
×

ফাইল ছবি

সিলেট ব্যুরো ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১৮:১৫ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১৯:০৭

টানা তিন দিন ভারী বৃষ্টির পর গত শনিবার রাতে ও রোববার সকালে শিলাবৃষ্টিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার ফসল নিয়ে চাষিদের মনে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ধানের ছড়া ছাড়ার সময়ে ব্যাপক শিলা বৃষ্টিতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। 

শনিবার রাত একটার দিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়। এতে ফসলি জমির পাশাপাশি বসতবাড়ির টিনের চাল ছিদ্র হয়ে হয়। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে হাওরের নিচু জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের হাওরে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ হয়েছে। স্বাভাবিক ফলন হলে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওর পাড়ের কৃষক ছইফউদ্দিন এ বছর ১০ একর জমিতে বোরো ফসলের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, 'ধানে এখন ছড়া আসার সময়। ৩-৪ দিনের বৃষ্টিতে জমি তলিয়ে যাওয়ায় মতো অবস্থা। রাতে ২-৩ বার শিলাবৃষ্টি হচ্ছে, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।' এই মুহূর্তে শিলাবৃষ্টি ফসলের জন্য ভালো লক্ষণ নয় বলে মনে করেন তিনি। 

কৃষক সালাম মিয়া বলেন, 'হাওরজুড়ে ধানের ছড়া ছাড়ার সময় এখন। কিন্তু এখনই এতো ঘন ঘন শিলাবৃষ্টির কারণে ফসল নিয়ে চিন্তায় পড়েছি। এতে ধানের সকল ছড়া ভেঙে যাবে। ভেঙে যাওয়া ধানের সকল ছড়া মরে যাবে। অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে আমাদের। এভাবে যদি শিলাবৃষ্টি হয় তাহলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। ধার দেনা করে ৭-৮ একর জমিতে চাষাবাদ করেছি ফসলের আশায়। কিন্তু আবহাওয়ার যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, এতে ভেতরে ভয় ঢুকে যাচ্ছে। ফসলের ক্ষতি হলে দিশেহারা হওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই। পাথরের কারনে ফসলের ক্ষতি হলে এটা আর পূরণ করা সম্ভব হবে না।'

মধ্যনগরের কৃষক মনোয়ার হোসেন বলেন, শিলার আঘাতে হাওরের ধানের শীষ ভেঙে পড়েছে এবং অনেক জমির ধানগাছ নুয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে। অসময়ে এমন শিলাবৃষ্টি হাওর এলাকায় ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়েছে।

বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. রতন মিয়া জানান, গত রাতের শিলাবৃষ্টিতে তার ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে ঘরটি প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেছে। 

শাজদাপুর গ্রামের বাসিন্দা এমদাদুল হক বলেন, আমাদের গ্রামে শতাধিক ঘর রয়েছে। দুই-তিনটি ঘর ছাড়া প্রায় সবগুলোর টিন ছিদ্র হয়ে গেছে। এতে অনেক পরিবার চরম বিপাকে পড়েছে।

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, গত রাতের শিলাবৃষ্টিতে হাওর এলাকার ফসলি জমি ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, দিরাই, শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলাসহ জেলার বেশ কিছু এলাকায় বজ্রবৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো ধান-ভুট্টা এবং শাকসবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

সিলেটে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি
মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি হয়েছে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায়। শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পাশাপাশি শিলাবৃষ্টিও হয়। বৃষ্টি জনজীবন ও প্রাকৃতিতে স্বস্তি ফিরলেও শিলাবৃষ্টির কারণে ফসল, গাছপালা ও কাঁচা ঘরের বেশ ক্ষতি হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানিয়েছেন শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ৭১.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত আরও ১২.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। 

সরকারি দপ্তরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন নগরী ছাড়াও সিলেট সদর উপজেলা, দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ ও কানাইঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টি হয়েছে। 
বজ্রসহ বৃষ্টির কারণে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। নগরীর মিরের ময়দার এলাকায় ট্রান্সমিটারে সমস্যার কারনে দুপুর পর্যন্ত লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গাছের ঢাল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকায় একাধিক বাড়ির টিনের চাল বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

×