টিপসই দিয়েও চাল মেলেনি
মোরেলগঞ্জের জেলেদের অভিযোগ
ফাইল ছবি
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ২১:৪১ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ২১:৫৫
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জাটকা নিধন বন্ধে জেলেদের মাঝে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নে চাল বিতরণের সময় অনেক জেলে পেয়েছেন নির্ধারিত চালের অর্ধেক। কারও কাছ থেকে আবার টিপসই রেখেও চাল দেওয়া হয়নি।
ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি জসিম উদ্দিন তালুকদারসহ কয়েকজনকে এ জন্য দায়ী করেছেন জেলেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ইচ্ছামতো চাল বিতরণ করেছেন। প্রতি জেলের জন্য ১৬০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ৬০ কেজি থেকে ৭৫ কেজি পর্যন্ত চাল দেওয়া হয়েছে তাদের। তারা প্রতিবাদ করায় কিছু চাল পেয়েছেন, না করলে ওই চালও তারা পেতেন না।
কুমারিয়াজোলা গ্রামের জেলে আবুল কালাম আকন বলেন, তিনি প্রকৃত জেলে হলেও তাঁকে সোমবার চাল দেওয়া হয়নি। একই গ্রামের আব্দুল হালিমের অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে টিপসই রেখেও চাল দেয়নি। উল্টো মাসুদ নামে এক সরকারি চাকরিজীবী চাল পেয়েছেন।
পঞ্চকরণ গ্রামের জেলে মো. নজির খলিফা বলেন, প্রত্যেক জেলের নামে ১৬০ কেজি চাল বরাদ্দ হয়েছে। বিতরণের সময় তাঁকে ৭৫ কেজি চাল দেওয়া হলে তিনি নিতে অস্বীকার করেন। এ কারণে তাঁকে চালই দেওয়া হয়নি। খালি হাতেই বাড়ি ফেরেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পঞ্চকরণ ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে। ওয়ার্ডের সদস্যরাও পরিষদে আসেন না। এ কারণে প্রশাসন জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন তালুকদারের ভাষ্য, ‘১৭২ জন জেলের নামে চাল বরাদ্দ হয়েছে। তাদের আমরা চাল দিয়েছি। বাইরে গিয়ে কে কী করেছেন, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।’
জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন কমিটির আমির মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, চাল বিতরণের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ কারণে হইচই হয়েছে বলে শুনেছেন। তাঁর মধ্যে কে কী করেছেন, তা বলতে পারছেন না।
এ ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি উপস্থিত থেকে ১৭২ জনকে চাল দিয়ে চলে এসেছি। তার পর কী হয়েছে, তা জানি না। তবে চাল দেওয়ার সময় খুব বিশৃঙ্খলা হয়েছে। আমি এর পর থেকে পঞ্চকরণ ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব না দিতে আবেদন করব।’
উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও ইউএনও হাবিবুল্লাহ বলেন, চাল বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ যদি জেলেরা করেন, তাহলে ব্যবস্থা নেবেন।
