ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

খাবারের অভাবে বাড়ি বাড়ি হানা বানরের

খাবারের অভাবে বাড়ি বাড়ি হানা বানরের
×

ডিংগামানিক পালপাড়া কার্তিকপুর এলাকার একটি ঘরের চালে বানর সমকাল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

শরীয়তপুরের নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে বসবাসকারী কয়েক হাজার বানর খাদ্য সংকটে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার বানর দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় বসবাস করছে। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় দল বেঁধে তারা মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে খাবার নিয়ে যাচ্ছে। 

ভেদরগঞ্জ উপজেলার পচালিয়া গ্রামে ভোর হলেই বানরের চিৎকারে ঘুম ভাঙে বাসিন্দাদের। খাবারের খোঁজে তারা বাড়ির আঙিনা, গাছপালা–এমনকি রান্নাঘরের দিকেও চলে যাচ্ছে। কখনও মানুষের হাতের খাবার কেড়ে নেওয়া, আবার কখনও উঠানে শুকাতে দেওয়া খাবার নষ্ট করে ফেলার ঘটনাও ঘটছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হলেও অনেকেই বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ দশক ধরে নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বানরের বসবাস। বিশেষ করে ডিংগামানিক ও কার্তিকপুর এলাকার পালপাড়া, মধুপুর ও পাচালিয়া গ্রামে তাদের উপস্থিতি বেশি।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, এখানে বনজ গাছের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও ফলদ গাছ খুব একটা নেই। ফলে স্বাভাবিক খাবারের অভাবে বানরগুলো মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। অনেক সময় উঠানে শুকাতে দেওয়া খাবার, রান্না করা ভাত-তরকারি কিংবা শিশুদের হাতে থাকা খাবারও তারা ছিনিয়ে নেয়।

গাছের ডাল ও বাঁশঝাড়ে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বানরগুলো। সুযোগ পেলেই আশপাশের বসতবাড়ির দিকে ছুটে যাচ্ছে। খাবারের খোঁজে কখনও ঘরের টিনের চালায় উঠে পড়ছে, আবার কখনও বাড়ির আঙিনায় নেমে আসছে। স্থানীয়রা তাদের কলা ও মুড়ি খেতে দিচ্ছেন। অনেক সময় হোটেল-রেস্তোরাঁর ফেলে দেওয়া আটার দলাও তাদের খেতে দেখা গেছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার পচালিয়া গ্রামের বাসিন্দা জয়ন্ত দাস বলেন, বানরের অত্যাচার এখন যেন আমাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রায়ই বাসাবাড়িতে ঢুকে খাবার নিয়ে যায়। অনেক সময় খাবার নষ্টও করে ফেলে। শুধু তাই নয়, ঘরে ঢুকে পায়খানা প্রস্রাব করে যায়। এতে করে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কিন্তু তবুও আমরা সব মেনেই থাকছি। 
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ সেন্টু শেখ বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমরা বানরের সঙ্গে একই পরিবেশে বড় হয়েছি। আগে আমরা নিজেরাই বানরের সঙ্গে খেলাধুলা করতাম। এখন আমাদের সন্তানরাও একইভাবে বানরের সঙ্গে মিশে খেলাধুলা করে। মাঝেমধ্যে তারা বানরগুলোকে কলা, মুড়ি ও বিস্কুট খেতে দেয়। তিনি জানান, আশপাশের কয়েকটি গ্রাম মিলিয়ে এলাকায় পাঁচ হাজারেরও বেশি বানর রয়েছে তাদের ধারণা। এত সংখ্যক বানরকে নিয়মিত খাবার জোগান দেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

সেন্টু শেখ আরও বলেন, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বানরগুলো এই এলাকায় বসবাস করছে। এতদিনেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরকারিভাবে যদি বানরগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে মানুষের সঙ্গে তাদের সংঘাত বা সমস্যাগুলো কিছুটা হলেও কমে আসত।
এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বানরের স্বাভাবিক আবাসস্থলের আশপাশে মানুষের বসতি বেড়ে যাওয়ায় তাদের খাবারের সংকট তৈরি হয়েছে। বানরগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করতে একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে খাসজমিতে বনায়ন করে তাদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করে পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. রহমান বলেন, শরীয়তপুরের দুটি উপজেলায় বানরের উপস্থিতির বিষয়টি তারা জেনেছেন। তবে বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×