বন্দিদশা ভুলিয়ে দিতে ধুমধামে ঈদ উদযাপন
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দির স্বজনরা ঈদের দিন দেখা করতে এলে শিশুদের বেলুন ও মিষ্টি উপহার দেন কারা কর্তৃপক্ষ সমকাল
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
অন্যরকম আয়োজনে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন প্রায় আড়াই হাজার বন্দি। সবার জন্য নতুন পোশাক, নারী বন্দিদের মেহেদী উৎসব, উন্নত খাবার, স্বজনদের সঙ্গে দেখা করা, বাড়ির খাবার গ্রহণ, মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ, কারাগারের ভেতর ঈদের নামাজ আদায় সবই ছিল এবারের ঈদ আয়োজনে। বন্দির স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কারাগার সূত্র জানায়, এবারের ঈদের আগের দিন বন্দিদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণের মাধ্যমে ঈদ উদযাপনের সূচনা হয়। পোশাকের ভেতরে ছিল– পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, শাড়ি ও মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুদের পোশাক। নারী বন্দিদের জন্য ছিল মেহেদী উৎসবের আয়োজন। সঙ্গে কসমেটিকস হিসেবে নেইল পলিশ, লিপস্টিক মেকআপ বক্স বিতরণ করা হয়। বিশেষ খাবারের আয়োজন শুরু হয় ঈদের আগের দিন রাত থেকেই। সন্ধ্যার সময় গরু ও খাসি জবাই করে সারারাত ধরে শুরু হয় সেটার কাটাকাটি, মসলা বাটাবাটি এবং রান্নার আয়োজন। বন্দিদের জন্য সকালের নাস্তা ছিল পায়েস ও মুড়ি। দুপুরের খাবারে ছিল পোলাও, খাসির ও গরুর মাংস, কোমল পানীয়, মিষ্টি পান সুপারি ও সালাদ। রাতের খাবারে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজি, আলুর দম, মুরগি ও ছোলার ডাল দিয়ে লটপটি।
দু্টি জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন বন্দিরা। সেখানে শুধু বন্দিরাই নামাজ আদায় করেননি, সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারারক্ষীরাও একই কাতারে মিলেমিশে ঈদের নামাজ আদায় করেন। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায়। বিশেষ এই দিনে স্বজনদের অনেকেই এসেছেন বাড়ির খাবার নিয়ে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে। সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেওয়া হয় বেলুন, চকলেট এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবার, যা ঈদের আমেজকে বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য ছিল স্বাস্থ্যক্যাম্প। বন্দিরা ঈদ উপলক্ষে পাঁচ মিনিট মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন। বিকেলে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখানে নিজেরা নিজেদের মতো করে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন বন্দি এবং কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারি কারা পরিদর্শক জাহিদ হাসানের ভাষ্য, ঈদে বন্দিদের জন্য শুধু উন্নতমানের খাবার আর নতুন পোশাক উপহার দেওয়াই নয়, ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে কারা কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারা কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে খুশি তারা।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন রাতে সমকালকে বলেন, ‘প্রায় আড়াই হাজার বন্দি বাড়িতে যেভাবে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করত, আমরা চেষ্টা করেছি ঈদের সেই আমেজ তাদের উপহার দিতে। শুধু ভালো খাবার দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ঈদের ২-৩টি দিন কারাগারে বন্দিরা যেন স্বজনদের থেকে দূরে থাকার কষ্ট ভুলে থাকতে পারে আমরা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টাই করেছি।’
- বিষয় :
- ঈদ উদযাপন
