চালনা লেকের পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পৌরবাসী, পুনর্খননের দাবি
দাকোপের চালনা পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী সুমিষ্ট পানির লেকটি কচুরিপানায় ও আবর্জনায় ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে সমকাল
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
দাকোপ উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী চালনা লেকে মরা কচুরিপানার স্তূপ ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। ওই পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পৌর বাসিন্দারা। প্রায় দুই যুগ ধরে লেকের পানিতে গোসল বা রান্নার কাজে পানি ব্যবহার করতে পারছেন না তারা। লেকটি পুনর্খননের মাধ্যমে সুপেয় পানির আধার তৈরির জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ষাটের দশকের সময় তৎকালীন চালনা বন্দরের পশুর নদীর শাখা খালের দক্ষিণ পাশে বাঁধ নির্মাণ করে নদীর লবণাক্ত পানির প্রবেশ বন্ধ করা হয়। তখন পশুর নদীর এ শাখা খালটির নামকরণ হয় চালনা লেক নামে। পরে ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খুলনা পরিদর্শনকালে চালনাবাসীর সুপেয় খাবার পানি আধার সৃষ্টির করার জন্য চালনার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৮৫ মিটার প্রস্থের এ লেকটি পুনর্খনন করার সিদ্ধান্ত নেন। খননের পর লেকটির পানি দিয়ে বৃহত্তর চালনা পৌরসভার ৬টি ওয়ার্ড বা গ্রামের ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ খাবার পানির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রান্না ও গোসলের কাজে লেকের পানি ব্যবহার করে আসছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ চার যুগ পেরিয়ে গেলেও লেকটি পুনর্খনন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেয়নি উপজেলা প্রশাসন এবং চালনা পৌরসভার কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে লেকটিতে কচুরিপানা আর আবর্জনার কারণে ভরাট হতে চলেছে। দুই যুগ ধরে লেকের পানি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী। এ পানিতে নামলে শরীরে চুলকানি জাতীয় রোগ দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে এ লেকের পানি দুর্গন্ধযুক্ত ও মশার বংশ বিস্তারের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ায় পৌরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
দাকোপ উপজেলা নাগরিক পরিষদের সভাপতি ও চালনা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মহানন্দ সরকার জানান, লেকটি পুনর্খনন করার দাবিতে আনরদোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরেও তারা দরখাস্ত দিয়েছেন। প্রতিকার মেলেনি। আমরা চাই এ লেকটি পুনর্খনন করে পৌরবাসীর জন্য সুপেয় পানির আধার সৃষ্টির ব্যবস্থা করা হোক।
পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আশীষ মণ্ডল জানান, চৈত্র-বৈশাখ মাসে পৌরসভার অধিকাংশ পুকুরের পানি শুকিয়ে গেলে তখন এ লেকের পানিই পৌরসভার ৫-৬টি গ্রাম বা ৫-৬টি ওয়ার্ডবাসীর একমাত্র ভরসা। দীর্ঘ বছর ধরে লেকটির মধ্যে জমে থাকা কচুরিপনা আর ময়লা-আবর্জনার স্তূপের কারণে লেকের পানি এখন দূষিত। লেকের নষ্ট পানির দুর্গন্ধ ও মশার কারণে লেকসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
চালনা পৌরসভার দীলিপ মণ্ডল জানান, তিনি লেকের পানি দিয়ে হাত-পা ধোয়ায় তাঁর শরীরে এলার্জি দেখা দিয়েছিল। শরীরে এলার্জি বা চুলকানি হওয়ার ভয়ে কেউ লেকের পানি ছুঁয়েও দেখে না।
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহির মাজহার সমকালকে জানান, তিনি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছেন। চালনা লেকটি পুনর্খনন করার সম্পর্কে চালনা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পাউবোকে অবহিত করেছে কিনা তাঁর জানা নেই।
ইউএনও ও চালনা পৌরসভার প্রশাসক মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, চালনার এ লেকটি মূলত পাউবোর সম্পত্তি। এ লেকটি পুনর্খননে পৌরসভা থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় সেটা সম্ভব হয়নি।
- বিষয় :
- দুর্গন্ধ
