ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

খোলস রেখে দুই ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি

কুমারখালীতে ২০২৩ সাল থেকে চুরি গেছে ১১৭টি

খোলস রেখে দুই ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি
×

যন্ত্রাংশ নিয়ে গেছে চোরেরা। পড়ে আছে খোলস। বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ১৭:১৭ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ১৮:৩১

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক রাতে দুই কৃষকের সেচ পাম্পের দুটি পাঁচ কেভিএ ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি গেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে চলতি বছরেই উপজেলার পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

ক্ষতির শিকার কৃষক আমির ফরায়েজি বলেন, বছরখানেক আগে একবার খোলস ফেলে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছিল। তখন দুই-তিন মাস সেচ বন্ধ ছিল। পরে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে পুরনো ট্রান্সফরমার কিনে লাগিয়েছিলেন। চুরি ঠেকাতে লোহার শিকল ও খাঁচাও বসান। এতো কিছুর পরও একইভাবে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতো চুরি হলেও কৃষক বাঁচবে কিভাবে? এক বছরে দুইবার ট্রান্সফরমার কেনা সম্ভব নয়।

ক্ষতিগ্রস্ত অপর কৃষক সাজিদুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার সকালে মাঠে এসে দেখি বিদ্যুতের খু্ঁটিতে ট্রান্সফরমার নেই। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেচ পাম্পের একটু দুরে খোলস পড়ে থাকতে দেখি। তবে ভিতরের যন্ত্রাংশ (কয়েল, তেল) নেই। বিষয়টি বিদ্যুত অফিসে জানানো হয়েছে।’

এই কৃষকের ভাষ্য, প্রায়ই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। এতে কৃষক ও গ্রাহকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তিনি নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি খরচে ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবি জানান।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, একদিকে জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। এতে চাষাবাদের ক্ষতি হবে। কিছুদিনের মধ্যেই পাটের আবাদ শুরু করবেন। জমিতে কীভাবে সেচ দিবেন, এ নিয়ে চিন্তিত তারা।

পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিটি পাঁচ কেভিএ ট্রান্সফরমারের বর্তমান দাম প্রায় ৫৯ হাজার ১১২ টাকা। সমিতির জোনাল কার্যালয় সূত্র জানায়, এ নিয়ে চলতি বছরে পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। গত বছর চুরি গেছে ৩৩টি। ২০২৩ সাল থেকে উপজেলায় প্রায় ১১৭টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেচ ও কলকারখানার ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহককে নিজ খরচে তা স্থাপন করার বিধান রয়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

মঙ্গলবার রাতে দুটি ট্রান্সফরমার চুরির সত্যতা নিশ্চিত করেন কুমারখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) বিপাশা ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, প্রতিটি চুরির ঘটনায় থানায় এফআইআর জমা দেওয়া হয়েছে। চুরি প্রতিরোধে গ্রাহকদের সচেতন করা হচ্ছে। তবে চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার গ্রাহকদেরই কিনতে হবে।

লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন। আর সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার। তিনি বলেন, চুরি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষকেরা যেন সহজ শর্তে ট্রান্সফরমার পান সেই চেষ্টা করবেন। 

আরও পড়ুন

×