ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কোথাও স্ল্যাব নেই, কোথাও ভাঙা, আবর্জনায় বন্ধ মুখ

কোথাও স্ল্যাব নেই, কোথাও  ভাঙা, আবর্জনায় বন্ধ মুখ
×

ভেঙে গেছে স্ল্যাব। সামান্য বৃষ্টিতেই নোংরা পানি উপচে প্লাবিত হয় সড়ক। সম্প্রতি রাজবাড়ী পৌর এলাকার মুরগি বাজারে সমকাল

সৌমিত্র শীল চন্দন, রাজবাড়ী 

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ০৯:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজবাড়ী শহরের মাছবাজার রোডের সিজন ড্রাই ক্লিনার্স ও পাশের কমল সরকারের ভুষির দোকানের সামনের ড্রেন খোলা দীর্ঘদিন। দুটি স্ল্যাব থাকলেও ভাঙা অবস্থায় তা পড়ে আছে লম্বালম্বি। সিজন ড্রাই ক্লিনার্সের মালিক সজীব সরদার জানান, ড্রেনের নোংরা পানির মধ্যেই যেন তারা ব্যবসা করছেন। গত ছয় মাস ধরে এ অবস্থা। ড্রেনের নোংরা পানি ও দুর্গন্ধের জন্য দোকানে ক্রেতা আসে না। কিছুদিন আগে পৌরসভা থেকে লোক এসে দেখে গেলেও কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। ড্রেনের নোংরা আবর্জনায় মশা-মাছির উপদ্রব খুবই বেড়েছে। 
রাজবাড়ী প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার এমন বেহাল অবস্থা গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে। শহরের অনেক ড্রেনের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। বাজারের বিভিন্ন জায়গায় নোংরা আবর্জনার স্তূপ জমেছে। বিস্তার বাড়ছে মশা মাছির। ছড়াচ্ছে রোগ জীবাণু। বর্ষায় একটু বৃষ্টিতেই ড্রেন উপচে তলিয়ে যায় রাজবাড়ী বাজার। বিষয়টি স্বীকার করে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী কাজ না করায় এ অবস্থা হয়েছে। 

পৌরসভার বিনোদপুর গ্রামের শেষ সীমানায় খালটিতে রয়েছে মাস্টার ড্রেন। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, খালটির মুখ প্রায় বন্ধ। ময়লা-আবর্জনায় ভরা। ওই স্থান থেকে রাজবাড়ী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ড্রেনের বিভিন্ন জায়গায় স্ল্যাব নেই। কোথাও আবার ভাঙাচোড়া। এসব জায়গায় পড়ে গিয়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে মানুষ। 

মুরগি বাজারে গিয়ে দেখা যায় আরও করুণ অবস্থা। সেখানে ১০টি দোকানের সামনে ড্রেনের স্ল্যাব নেই। মাছি ভনভন করছে। দুর্গন্ধে থাকা মুশকিল। এর মধ্যেই বাধ্য হয়ে দোকান চালাতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। মুরগি ব্যবসায়ী গোলাম গাউস জানান, পাঁচ-ছয় বছর ধরে তারা এ দুরবস্থার মধ্যে আছেন। ড্রেনে নোংরা পানি জমে রাস্তা পর্যন্ত উঠে যায়। খোলা ড্রেনের কারণে মশা, মাছির উপদ্রব ব্যাপক বেড়েছে। দিনের বেলায়ও মশার কয়েল জ্বালাতে হয়। দুর্গন্ধের জন্য ক্রেতারা নাকে রুমাল চেপে আসে। 

মুরগি বাজারের পাশেই লেপতোষকের দোকান। হাসিনা প্লাজা এবং বাতেনের দোকানের মাঝখানে যে ড্রেনটি রয়েছে, সেখানে জমে আছে ময়লা আবর্জনা। তার পাশ দিয়ে চলে গেছে বাজারে প্রবেশের সড়ক। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্গন্ধ সহ্য করে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। লেপ তোষক ব্যবসায়ী গোলাম ফারুক জানান, তাঁর দোকানের পাশে ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে। গত এক বছরে একবার মাত্র ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। 

মাছ বাজার মোড়ের রাজবাড়ী মেডিকেল হলের মালিক ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান জানান, রাজবাড়ী বাজারে ড্রেনের অবস্থা হলো কোথাও উঁচু, আবার কোথাও নিচু। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙাচোড়া। অনেক জায়গায় স্ল্যাব নেই। পরিচ্ছন্নকর্মীরা ড্রেন পরিষ্কারের সময় তিন-চার দিন ধরে নোংরা আবর্জনা তুলে ফেলে রাখে। এতে সমস্যা আরও তীব্র হয়। দুর্গন্ধে তখন দোকানে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। 

এ বিষয়ে রাজবাড়ী পৌরসভার হিসাবরক্ষক ওম্বর আলী জানান, পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বাজেট বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে ড্রেনেজে ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা, বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য আট লাখ টাকা এবং ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য ছয় লাখ টাকা। 
রাজবাড়ী পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর সাবেদুল হক জানান, পৌরশহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য তাদের ৫ জন পরিচ্ছন্নকর্মী রয়েছেন। তারা প্রতিদিন কাজ করেন। এ ছাড়া বছরে একবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। রাজবাড়ী শহরের মাস্টার ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় পানি বের হতে পারছে না। যে কারণে ড্রেনগুলোর এ দুরবস্থা। ড্রেন সংস্কারের জন্য প্রচুর টাকা দরকার। 
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হক বলেন, রাজবাড়ী পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না। এর আউটফল নেই। এখানে বিগত দিনে যারা দায়িত্বে ছিলেন মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী তারা কাজ করেননি, করলে এ অবস্থা হতো না। এটি নিয়ে এখন আমরা কাজ করছি। আউটফল ছাড়া ড্রেনের কোনো অনুমোদন দেব না। যেটুকু কাজ করবেন সেটির যেন আউটফল থাকে। বাজারের মধ্যে দিয়ে যেদিক দিয়ে পানি বের হওয়ার কথা সেখানে আউটফল নেই। একজনের পুকুরের মধ্যে ড্রেনের মাথা রয়েছে। 
রাজবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার উপপরিচালক ড. মাহমুদুল হক বলেন, পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। যথাসময়ে তা বাস্তবায়ন হবে। 

আরও পড়ুন

×