কৃষকের চাঁদার টাকায় বাঁধ নির্মাণ
স্বেচ্ছাশ্রমে গত ১০ দিন ধরে বাঁধের কাজ করছেন কৃষকরা। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার নোয়াল গলগলিয়া হাওরে সমকাল
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ০৯:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
তাহিরপুরে নোয়াল গলগলিয়া হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় না থাকায় কৃষকরা চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ শুরু করছেন। নোয়াল গলগলিয়া হাওরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বর্ধিত গুরমা প্রকল্পের ভেতর থাকলেও কী কারণে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বাদ পড়েছে, কৃষকরা তা জানেন না।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হুকুমপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ জানান, দুই হাজার কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমি রয়েছে নোয়াল গলগলিয়া হাওরে। প্রতি কিয়ার জমি থেকে গ্রামবাসী সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃষকদের তারা চাঁদা ধরেছেন একশ পঞ্চাশ টাকা করে। এতে করে প্রায় দুই লাখ টাকা আসে বাঁধ নির্মাণকাজের জন্য।
উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রামসিংহপুর, হুকুমপুর ও লামাগাঁও গ্রামের কৃষকদের জমি রয়েছে নোয়াল গলগলিয়া হাওরে। বাঁধটি নির্মাণের জন্য কৃষকরা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সাহায্যের জন্য অনেক আবেদন নিবেদন করেও কোনো প্রকার সাড়া পাননি। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাতে পাটলাই ও বৌলাই নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা এক কিলোমিটার বাঁধের কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ১৬০ জন কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে গত ১০ দিন ধরে কাজ করে আসছেন। কাজ শেষ হতে আর দুদিন সময় লাগবে। ফসল ওঠার আগ পর্যন্ত তারা বাঁধটি তাদের তদারকিতে রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
কৃষকদের কাছ থেকে উত্তোলিত টাকা দিয়ে জিও ট্যাক্স কাপড়, বাঁশ ও চাটাই কেনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে তাদের নজরে পড়ে নোয়াল গলগলিয়া হাওরের বাঁধটি। বাঁধে কর্মরত শ্রমিকরা নির্মাণকাজের বিষয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের অবগত করেন। এ সময় কর্মকর্তারা কৃষকদের আশ্বাস দেন, আগামী নভেম্বর মাসে তারা যেন নোয়াল গলগলিয়া হাওরটি পাউবোর আওতায় নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ বরাবরে একটি আবেদন করেন। পরে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, নোয়াল গলগলিয়া হাওরে কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণকাজটি তারা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের সময় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও ছিলেন। কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বলে দেওয়া হয়েছে, আগামী নভেম্বর মাসে তারা যেন নোয়াল গলগলিয়া হাওরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নেওয়ার জন্য বোর্ডে একটি আবেদন করেন। পরে কারিগরি দল পাঠিয়ে তদন্ত করে যৌক্তিক মনে হলে হাওরটিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- স্বেচ্ছাশ্রম
