ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা
×

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি অরক্ষিত। সামনে-পেছনে ময়লার স্তূপ সমকাল

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ০৯:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি বেহাল হয়ে পড়েছে। তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই। ভবনটিতে সন্ধ্যার পর বসছে মাদকসেবীদের আসর। ভবনের সামনে-পেছনে ময়লার স্তূপ আর অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ২০২২ সালে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গতকাল বুধবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ভবনের সামনে রাখা হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টমটম গাড়ি। চত্বরের এক পাশে চলছে বিয়ের অনুষ্ঠান। কমপ্লেক্সের পাশে ও পেছনে তৈরি হয়েছে বিশাল ময়লার স্তূপ, যা পরিবেশকে দূষিত করছে।
ভবনটির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ৮টি করে দোকান রয়েছে। নিচতলায় ‘বঙ্গজ বিস্কুট’ ও ‘ইস্ট বেকারি’ নামে 
দুটি প্রতিষ্ঠান ভাড়া রয়েছে। বঙ্গজ বিস্কুটের ডিপো মালিক রঞ্জিত সরকার জানান, অব্যবস্থাপনার কারণে এখানে ভাড়া অনেক কম। পরিপাটি পরিবেশ থাকলে ভাড়ার পরিমাণ আরও বেশি হতে পারত। জানা গেছে, দোকানপ্রতি ৪ হাজার টাকা ভাড়া এবং ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছে।

ভবনের নিরাপত্তারক্ষী আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি ভাড়া তুলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তহবিলে জমা দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধাদের আনাগোনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই সুযোগে সন্ধ্যার পর ভবনের আশপাশে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আড্ডা বসে। ভবনের পেছন দিয়ে পালানোর সহজ পথ থাকায় অপরাধীরা এলাকাটিকে নিরাপদ মনে করছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী সমকালকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাড়া দেওয়ার নিয়ম আছে এবং সেই টাকা সরকারি তহবিলে জমা হয়। তবে মাদকসেবীদের উৎপাত বা অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান জানান, কমপ্লেক্সটি মূলত ইউএনও এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা দেখাশোনা করেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ইউএনওকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক আমিন আহমেদ সমকালকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বরে মাদকসেবী এবং ছিনতাইকারীদের উৎপাতে অতিষ্ঠ তারা। এখন পর্যন্ত ৮-১০ বার এখানে চুরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কমিটির কাছে বারবার এসব বিষয়ে নালিশ করলেও এখনও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×