ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জুলাইযোদ্ধাদের দাবির মুখে প্রেস ক্লাব ‘বন্ধ রাখার পরামর্শ’ দিলেন ইউএনও

জুলাইযোদ্ধাদের দাবির মুখে প্রেস ক্লাব ‘বন্ধ রাখার পরামর্শ’ দিলেন ইউএনও
×

ফাইল ছবি

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০০:২২

জুলাইযোদ্ধাদের দাবির মুখে গোদাগাড়ীর উপজেলা প্রেস ক্লাব বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন। শনিবার সকালে প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ডেকে তিনি এ পরামর্শ দেন।

সাংবাদিকরা বলছেন, প্রেস ক্লাব চলে সাংবাদিকদের নিজস্ব নিয়মে। এখানে সরকারি কিংবা যেকোনো হস্তক্ষেপ স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। সাংবাদিকরা ইউএনওর এমন পরামর্শের নিন্দা জানাচ্ছেন এবং তাকে এই অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

গোদাগাড়ীর স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, ২০০৪ সালে এই প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালে উপজেলা সদর ডাইংপাড়া মোড়ের একটি জায়গায় এককক্ষের প্রেস ক্লাব ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন এই প্রেস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন আলমগীর কবির তোতা। জুলাইযোদ্ধাদের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। এটি সামনে এনে প্রেস ক্লাবটি দখলের চেষ্টা চলছিল। সম্প্রতি প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি করা হলেও সেই চেষ্টা থামেনি।

গোদাগাড়ীতে সম্প্রতি ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই সংগঠন চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে প্রেস ক্লাব ভবন দখল করে নিজেদের কার্যালয় খোলার চেষ্টা করছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন গত ২৪ মার্চ ইউএনওর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এতে তিনি দাবি করেন, প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এরপর সেদিনই তার নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবে তালা দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকরা তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। কিন্তু তারা প্রেস ক্লাবে বসতে পারছেন না। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় তারা প্রেস ক্লাবে বসেছিলেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক সদস্যসচিব মো. রহমতুল্লাহসহ কয়েকজন যান। তারা তাকে জানান, প্রেস ক্লাবের ব্যাপারে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন প্রেস ক্লাব না খোলেন। সেই থেকে নিরাপত্তার সংকটে সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাবে বসতে পারেননি।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’র সভাপতি সাবিয়ার রহমান মিল্টন জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই জুলাই আন্দোলনের আহতরা প্রেস ক্লাবে নিজেদের অফিস করতে চাচ্ছিলেন। তিনি ইতোমধ্যে কয়েক দফা সেই উদ্যোগ ঠেকিয়েছিলেন।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি জানান, প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টার বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এতে আরও চটেছেন ইউএনও এবং জুলাইযোদ্ধারা। এখন জুলাইযোদ্ধারা নিজেদের অফিস করার দাবি থেকে সরে এসে প্রেস ক্লাব গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে পাবলিক টয়লেট কিংবা যাত্রী ছাউনি করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি জানান, শনিবার সকালে ইউএনও নাজমুস সাদাত রত্ন তাকে ডেকে পাঠান। এরপর তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিছু দিন প্রেস ক্লাব বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন। আর এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা ‘ঠিক হয়নি’ বলেও তাকে জানান ইউএনও। তিনি বলেছেন, জুলাইযোদ্ধাদের সরকারও ভয় পায়। সেখানে তাদের সঙ্গে মীমাংসা করে নেওয়াই ভাল হবে।

ইউএনওর এমন পরামর্শের নিন্দা জানিয়ে রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অপু বলেন, ‘প্রেস ক্লাব সাংবাদিকদের নিজস্ব নিয়মে চলে। এখানে যে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপই স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। ইউএনও সরকারি কর্মকর্তা। তাই তাঁর এমন পরামর্শ সরকারকে নিয়ে ভুল বার্তাও ছড়াতে পারে।’

জানতে চাইলে ইউএনও নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, ‘প্রেস ক্লাবের সভাপতির সঙ্গে আমার এ বিষয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু প্রেস ক্লাব বন্ধ রাখার পরামর্শ ওইভাবে দেওয়া হয়নি।’ 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক সদস্যসচিব মো. রহমতুল্লাহ বলেন, ‘প্রেস ক্লাব আছে সরকারি জায়গায়। সাংবাদিকরা কেন সরকারি জায়গায় বসবেন? অন্য কোনো জায়গায় প্রেস ক্লাব করলে প্রয়োজনে আমি ভাড়া দেব। কিন্তু এই প্রেস ক্লাব রাখব না।’

আরও পড়ুন

×