চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণ হলে আত্মহত্যার ঘোষণা বিএনপি নেতার
পাবনার চাটমোহর রেলবাজারে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি নেতা কাজী খোকন। ছবি: সমকাল
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১৪:১৮ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১৪:৫৩
চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে আত্মহত্যা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন পাবনার চাটমোহরের বিএনপি নেতা রেজাউল করিম খোকন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চাটমোহর রেলবাজারে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি।
রেজাউল করিম খোকন, যিনি কাজী খোকন নামেও পরিচিত, চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক। তিনি উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের জগতলা গ্রামের খবির উদ্দিন মাস্টারের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে খোকন বলেন, চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিষয়ে যদি আমার কোনো সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি রাজনীতি তো দূরের কথা, আত্মহত্যা করবো।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, একই উপজেলার মহরমখালি গ্রামের হারুন অর রশীদ নামের এক ব্যক্তি খোকনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ তোলেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় চাটমোহর রেলবাজার এলাকায় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন হারুন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, কাজী খোকন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন, চাঁদা না দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী খোকন বলেন, দেশনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তার প্রেক্ষিতে আমি আমার এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। হারুন একজন মাদকের ডিলার ও আদম ব্যবসায়ী—এটা সবাই জানে।
তিনি আরও বলেন, হারুনের সঙ্গে ‘ডলার’ নামে এক যুবক মাদক সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত ছিল। ওই যুবককে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে হারুন তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণা করে। পরে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো হুমকি দেয়। ভুক্তভোগী যুবক বিষয়টি তাকে জানালে তিনি হারুনকে ডেকে টাকা ফেরত দিতে বলেন।
খোকনের দাবি, টাকা ফেরত না দেওয়ায় তিনি হারুনকে মারধর করেন এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে চান। তবে স্থানীয় কিছু নেতা বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে হারুনকে নিয়ে যান। এরপরই দলের কিছু প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, মূলত মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে চরিত্র হনন করা হয়েছে। আপনারা তদন্ত করে দেখেন, আমাকে সহযোগিতা করেন, প্রশাসনকেও সহযোগিতা করেন। আমি যদি দোষী হই, আপনাদের সামনে ওয়াদা করছি—রাজনীতি ছাড়বো, এমনকি আত্মহত্যাও করবো।
এ সময় তিনি হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস আলো, মূলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান ঠান্টু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম মোল্লাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
