প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি
আনোয়ারায় প্রথম দিনে খাবার পায়নি অর্ধশত স্কুলের শিক্ষার্থী
ফেনীর সোনাগাজীতে স্কুলফিডিং কর্মসূচির প্রথম দিন গতকাল রোববার দুপুরে শ্রেণিকক্ষে সিদ্ধ ডিম ও বনরুটি হাতে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। ছবিটি সোনাগাজী পৌরসভার পূর্ব তুলাতলী কবি নজরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তোলা: সমকাল
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ০৭:০৮
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার সকালে আনোয়ারা উপজেলার ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। তবে কর্মসূচির প্রথম দিনেই প্রায় অর্ধশত বিদ্যালয়ে পৌঁছেনি খাবার। অনেক বিদ্যালয়ে পৌঁছালেও তা অনেক দেরিতে হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় খুদে শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। ঘটনার দায় স্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, কর্মসূচির প্রথম দিন হিসেবে খাদ্য বিতরণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। গাড়ি ও গ্যাস সংকটের কারণে তারা ঠিকমতো সবকিছু গুছিয়ে উঠতে পারেননি।
জানা যায়, সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচি (ফেজ-১) প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের দারিদ্র্যপ্রবণ ৮ বিভাগের মধ্যে ৬২টি জেলার ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর টিফিন দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩টি উপজেলা রয়েছে এ কার্যক্রমের আওতায়। তবে চট্টগ্রাম জেলার একমাত্র উপজেলা হিসেবে আনোয়ারা এ প্রকল্পে নির্বাচিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের সার্বিক পুষ্টিমান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ফিডিং কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বিদ্যালয় চলাকালীন প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের
মাঝে পুষ্টিসমৃদ্ধ ফর্টিফায়েড বিস্কুট, ইউএইচটি মিল্ক, বন রুটি, সেদ্ধ ডিম ও কলা/স্থানীয় মৌসুমি ফল বিতরণ করা হবে।
আনোয়ারা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলায় ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এ প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার কথা। তবে কর্মসূচির প্রথম দিনে ৪০টি বিদ্যালয় থেকে খাবার না পাওয়ার অভিযোগ এসেছে।
উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে খবর নিয়ে জানা যায়, প্রায় অর্ধেক সংখ্যক বিদ্যালয়ে খাবার পৌঁছায়নি। আবার অনেক বিদ্যালয়ে পৌঁছালেও তা নির্দিষ্ট সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে খাবার পৌঁছানোর কথা। কিন্তু বিকেল ৪টা পেরিয়ে ক্লাস টাইম শেষ হলেও খাবার পৌঁছেনি। খাবার দেওয়ার খবরে শিক্ষার্থীরাও নিজেদের টিফিন আনেনি। তারাও ক্ষুধায় হাঁসফাঁস করছিল। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যে নম্বর দেওয়া হয়েছিল, সেটাতে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে খাবার সরবরাহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বদেশপল্লীর ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ নাহিদ বলেন, ‘খাবার পৌঁছানোর জন্য আমরা ৪-৫টি গাড়ি দিয়েছি। তবে গ্যাস সংকট, গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে সব বিদ্যালয়ে খাবার পাঠানো সম্ভব হয়নি। প্রথম দিন হিসেবে এই সমস্যা হয়েছে। কাল (সোমবার) থেকে সব ঠিকমতো হবে বলে আশা করছি।’
খাবার না পাওয়ার বিষয়ে আনোয়ারা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ হিন্দুল বারী বলেন, ৪০টির মতো বিদ্যালয়ে খাবার না পৌঁছানোর খবর এসেছে তাঁর কাছে। বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।
আনোয়ারার ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, বিষয়টি জেনেছেন। খোঁজখবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।
- বিষয় :
- আনোয়ারা
