ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া

নেতাই নদের বাঁধে ভাঙন দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

নেতাই নদের বাঁধে ভাঙন দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
×

নেতাই নদের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে ধোবাউড়া উপজেলার পূর্ব সোহাগীপাড়ায়। ছবি: সমকাল

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১২:২৪ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১২:৩৫

চৈত্র মাসেই কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণ এবং নেতাই নদের বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়িবাঁধে ভাঙনের ফলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বোরো ধান আবাদ করা কৃষকরা।

জানা গেছে, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষবেড়, দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব সোহাগীপাড়া ও কলসিন্দুর গুদারাঘাট এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ওইসব এলাকার কয়েক শতাধিক কৃষকের বোরো ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে সোহাগীপাড়া রহমতের বাজার এলাকায় রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির করা ড্রেন বন্ধ না করায় গত শুক্রবার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ওই পথে পানি ফসলি জমিতে  প্রবেশ করে। পরে পানির চাপ বেশি থাকায় ওই স্থানে প্রায় ২০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়।

এ ছাড়া গামারীতলা ইউনিয়নের কয়েক স্থানেও বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আরও অনেক জায়গায় বাঁধ ভাঙনের হুমকিতে আছে। অনেকের অভিযোগ, রাবার ড্যামের অব্যবস্থাপনার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, বাঁধ রক্ষায় এই মৌসুমেই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বাঁধটি দ্রুত মেরামত না করলে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের আবাদ করা বোরো ধান ও শাকসবজিসহ ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোহাগীপাড়া গ্রামের কৃষক রতন মিয়া জানান, চলতি বোরো মৌসুমে নেতাই নদীর বাঁধ কেটে বোরো আবাদে পানি নিয়েছিলেন কৃষকরা। 

হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে নদী উপচে পানি প্রবাহিত হয়ে প্রায় ২০ ফুট ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়া হলে অসংখ্য কৃষকের কপাল পুড়বে। রশিদ মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘পানি উঠাইছে ক্ষেতে। কিন্তু কয়েক দিন ধইরা বৃষ্টি অইতেছে। যদি বান্ধুনের ব্যবস্থা করত, তবে বাঁধ ভাঙ্গত না।’

ঘোষগাঁও এলাকার কৃষক আলী আকবর বলেন, ‘চৈত্র মাসে এইরুম কইরা গাঙ্গে ঢল আইতে কোনো দিন দেহি নাই। এইবার আমগোর নদীপাড়ের মানুষের কপালে দুশ্চিন্তা ছাড়া কিছু নাই’।

এ বিষয়ে দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘বাঁধে ভাঙনের জন্য রাবার ড্যাম কর্তৃপক্ষ দায়ী। কারণ, তারা বৃষ্টি হওয়ার পরও নদীর পানি আটকে রাখে। পরে পাহাড়ি ঢলে পানি উপচে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’। দ্রুত বাঁধটি মেরামত করা না হলে সামনে বর্ষায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

রণসিংহপুর রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আমাদের এই ব্যবস্থপনা সমিতি থেকে অন্তত ২০ হাজার কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। রাবার ড্যাম-সংলগ্ন গ্রামগুলোতে সরাসরি নদী থেকে চ্যানেল করে পানি কৃষকদের দেওয়া হয়ে থাকে। সময়ের অভাবে সোহাগীপাড়ায় চ্যানেল করা হয়ে ওঠেনি। এদিকে গত শুক্রবার হঠাৎ পাহাড়ি ঢল এলে আমরা দ্রুত রাবার ড্যাম ছাড়ার ব্যবস্থা করি। কিন্তু পানির চাপ বেশি থাকায় ওই চ্যানেলের পাড় ভেঙে যায়। তিনি আরও বলেন, ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামত করার জন্য আমরা আলোচনা করছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করা হবে।

আরও পড়ুন

×