আন্তর্জাতিক রুট চালু ও রেল সম্প্রসারণের দাবি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে রেলযোগাযোগ সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের দাবি এবার আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। জেলার সার্বিক উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মাধ্যমে এই আবেদনটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
আবেদনটি জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবুসহ সংগঠনের অন্য নেতৃবৃন্দ। আবেদনে জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবগুলো হলো–কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট রেললাইন পুনঃস্থাপন, ধরলা সেতুর পাশে একটি পৃথক রেলসেতু নির্মাণ, কুড়িগ্রাম-চিলমারী-গাইবান্ধা হয়ে ঢাকার সঙ্গে বিকল্প রেল করিডোর চালু করা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে শক্তিশালী রেলসংযোগ স্থাপন।
আবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, সোনাহাট স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলসংযোগ চালু হলে ভারতের আসাম রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পথ সুগম হবে। এ ছাড়া জেলায় প্রস্তাবিত ভুটানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রামসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে ।
কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জিল্লুর রহমান বলেন, ‘যাতায়াতের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় আমরা পিছিয়ে আছি। রেললাইন হলে ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বাড়বে।’ নাগেশ্বরী পৌর এলাকার ওমর ফারুক জানান, ঢাকায় যাতায়াতে বর্তমানে প্রচুর সময় ও ভোগান্তি পোহাতে হয়, যা উন্নত রেলব্যবস্থায় লাঘব সম্ভব।
সোনাহাট ইউনিয়নের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বন্দর পর্যন্ত রেললাইন গেলে সীমান্ত বাণিজ্য বহুগুণ বাড়বে।’ কুড়িগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আহ্বায়ক আব্দুল আজিজও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
- বিষয় :
- রেল
