পটিয়ায় ছুরিকাঘাতে লেগুনাচালক নিহত
নিহত লেগুনাচালক গফুর
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০১:২২
চট্টগ্রামের পটিয়া পৌর সদরের রেল স্টেশন এলাকায় আবদুল গফুর (৩৮) নামের এক লেগুনাচালককে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় পটিয়া পৌর সদরের রেল স্টেশন এলাকার কাট্টলীপাড়া গ্রামের ছায়ের আহমদের কলোনির একটি গলি থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
নিহত আবদুল গফুর পটিয়া পৌর সদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাহুলী গ্রামের মৃত লেদু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত গাড়িচালক আবদুল গফুর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম শহর রুটে দীর্ঘবছর ধরে লেগুনা চালিয়ে আসছিলেন।
নিহত গফুরের ছেলে হৃদয় জানিয়েছেন, তার বাবার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে সকাল ৬টার সময় কল দেন। তার বাবার মোবাইলটি অন্য আরেকজন কল রিসিভ করে তাকে বলেন, ‘৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। আর না হলে তোমার বাবাকে জবাই করে হত্যা করা হবে।’ পরে তার বাবার নম্বরে কল দিলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ‘পটিয়ার পৌর সদরের রেল স্টেশনের কাট্টলীপাড়া গ্রামের ছায়ের আহমদের কলোনির রাস্তায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার পর রক্তক্ষরণের এক পর্যায়ে তার মৃত্যু ঘটে।
আবুল হোসেন নামের এক বৃদ্ধা জানিয়েছেন, তার বাড়ির সামনে টিনের ঘেরাতে শব্দ শুনে তিনি দেখতে পান, মরদেহটি ড্রেনের উপর পড়ে আছে। এরপর তিনি স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানান।
জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর পটিয়া বাস স্টেশন এলাকার পিটিআই স্কুলের সামনে মহেন্দ্র স্টপের লাইনম্যান লোকমান ওরফে পাপ্পুর সঙ্গে স্টপেজে গাড়ি রাখা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।
পটিয়া অটো-টেম্পো-সিএনজি-মহেন্দ্র পরিবহন সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সেকু অভিযোগ করেন, নিহত গফুরের সঙ্গে লাইনম্যান পাপ্পুর কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। আমাদের সমিতির সভাপতি বদিউল আলম বিষয়টি মিটমাট করলেও পাপ্পু তা মেনে না নিয়ে গফুরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জব্বারুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যকাণ্ডটি কেন ঘটেছে, কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- লেগুনাচালক
- নিহত
- ছুরিকাঘাত
