ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘ছেলে পড়াশোনা করতে চায়, কিন্তু আমি পারতিছি নে’

‘ছেলে পড়াশোনা করতে চায়, কিন্তু আমি পারতিছি নে’
×

ওমর ওসমান রাজু

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘কিডনি নষ্ট হয়া স্বামী ১৪ বছর আগেই মারা গেছে। ইনকামের (আয়) লোক নাই। ছেলে পড়াশোনা করতে চায়, কিন্তু আমি পারতিছি নে। এই ঘরটুক মানুষ সাহায্য মাহায্য করে তুলে দিছে। এহন ছেলে চাচ্ছে পড়াশোনা করতি। আমি মানা করছি, কিন্তু সে শোনতেছে না। আমি টাকা পাবো কোনে।’ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে ছলছল চোখে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ফাতেমা খাতুন। 
ফাতেমা উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের মৃত খবির উদ্দিনের স্ত্রী। সংসারে তাঁর ওমর ওসমান রাজু ও রাফিউল নামে দুই ছেলে আছে। তারমধ্যে বড় ছেলে রাজু ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ফাতেমার ভাষ্য, রাজু পড়াশোনায় ভালো। সেজন্য বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক এবং এলাকাবাসীর সাহায্য-সহযোগিতায় বিনা খরচে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে এসেছেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চান তিনি।
রাজু উপজেলার জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে বাণিজ্য বিভাগের কৃতী শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৯২ পয়েন্ট পেয়ে এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হন। 

এরপর কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারে এক শিক্ষককের সহযোগিতায় বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির গুচ্ছ পরীক্ষায় ৯০তম, জাহাঙ্গীরনগরে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম মেধাস্থান অর্জন করেছেন রাজু। তবে অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় রাজুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।
মঙ্গলবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, মহিষাখোলা গ্রামের মেঠো পথের ধারে রাজুর টিনশেডের দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘর। ভাঙা কাঠের দরজা থাকলেও জানালায় রয়েছে কয়েক টুকরো কাঠ ও ছেঁড়া কাপড়ের অংশ। পাশের একটি মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে পেঁয়াজ তোলার শ্রমিকের কাজ করছেন রাজু। তাঁর চোখেমুখে হতাশার ছাপ। রাজু বলেন, ‘ক্লাস টুতে পড়ার সময় বাবা মারা যান। প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও কোচিংয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় আজ পর্যন্ত আমার লেখাপড়া। পরিবারের সামর্থ্য নাই যে, আমাকে একটা বই-খাতা কিনে দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকার জন্য মাঠ জন দিচ্ছি (কামলা খাটা) ৫০০ টাকা চুক্তিতে।’
জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাজু বিনা খরচে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে সুনামের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তার স্বপ্নপূরণে সাধ্যমতো সহযোগিতা করবো।’
 

আরও পড়ুন

×