রাস্তার বাঁকে বাঁকে মরা গাছ অপসারণের উদ্যোগ নেই
আইনি জটিলতার কারণে রাস্তার পাশে কেটে ফেলা গাছ অপসারণ হয়নি। ছবিটি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ী-মাদিলাহাটি সড়ক থেকে তোলা সমকাল
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
চলমান কালবৈশাখীর মৌসুমে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার দু’ধারের শুকনো ও মরা গাছগুলো পথচারীদের জন্য বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। এক বছর সময় অতিক্রান্ত হলেও এসব গাছ কাটা বা অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেই। উল্টো অনেক জায়গায় গাছ কেটে ব্যস্ততম রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে, যা যাতায়াতে ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে ৮ কিলোমিটার রাস্তা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়ী-মাদিলাহাট পাকা রাস্তার প্রায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে দু’ধারে অর্ধশত মৃত ও অর্ধমৃত গাছ বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বিদেশি প্রজাতির এসব গাছ পর্যায়ক্রমে মরতে শুরু করেছে। মরা ডালপালাগুলো রাস্তার ওপর হেলে থাকায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। শুধু তাই নয়, সুজাপুরে ৮-১০টি, মেলাবাড়ীতে ২টি, চাঁদপাড়া স্কুলে ২টি এবং ডাকবাংলোয় ২টি গাছের গোলাই দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, সুযোগ বুঝে অসাধু ব্যক্তিরা রাতের আঁধারে এসব সরকারি কাঠ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
চাঁদপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমদাদুল হক ও মেলাবাড়ী ভূমি অফিসের তহশিলদার লুৎফর রহমান বলেন, ২০২১ সালে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য একটি কাঁঠাল, একটি নিম গাছ ইউএনও স্যারের নির্দেশে কাটা হয়েছিল। তাঁকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটিও হয়েছে। এ কমিটির কাজ এসব পরিত্যক্ত গাছ, কাঠ দরপত্র আহ্বানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় গাছগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ গাছের কারণে পথচারী ও স্থানীয়দের উৎকণ্ঠা বাড়ছে। দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে তারা চলাচল করছেন। মাদিলাহাটের ভ্যান ও রিকশাচালক লোকমান হোসেন, জিয়ারুল হক, ছদরুল এবং সুজাপুরের দ্বিজেন ও হাসিবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। মরা গাছ আর পড়ে থাকা গোলাই আমাদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে আছে। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কর্মকর্তারা কি এগুলো দেখতে পান না?’
শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি পুখুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান এবং মাদিলাহাট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবু শহীদ বলেন, ‘প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে খুব ভয় লাগে। কখন মরা ডাল গায়ের ওপর ভেঙে পড়ে তার ঠিক নেই। দ্রুত এগুলো অপসারণ করা জরুরি।’ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল সিরাজ বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সময় এই রাস্তা দিয়ে গেলেই দুর্ঘটনার আতঙ্ক কাজ করে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত গাছগুলো কেটে ফেলা।’
এলুয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নবিউল ইসলাম, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এবং খয়েরবাড়ী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শামিম হোসেন জানান, প্রতিটি ইউনিয়নেই মরা গাছ ও ডালপালা বসতবাড়ির ওপর ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। কালবৈশাখী শুরু হয়েছে। এখনও গাছ অপসারণ করা হয়নি। ফলে যে কোনো সময় প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ‘উপজেলার কোথায় কোথায় মরা গাছ ও গোলাই আছে তা অনুসন্ধান করে দরপত্রের মাধ্যমে দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।’ অন্যদিকে, ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (ডিএফও) ফাহিম মাসউদ বলেন, ‘বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় এমন মরা গাছ থাকলে আমাদের তথ্য দিন, আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’
- বিষয় :
- গাছ কাটা
