অদম্য রাজুর স্বপ্নের সহযোগী অনেকেই
ওমর ওসমান রাজু
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশোনা অর্থাভাবে থমকে যেতে বসেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালীর তরুণ ওমর ওসমান রাজুর। তাঁর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন যখন বাধার মুখে, তখনই রাজুর পাশে দাঁড়িয়েছে কয়েকটি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজুর হাতে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দিয়েছে স্বপ্ন সুপার শপ পরিবার। একই দিন দুপুরে তাঁর জন্য মাসিক পাঁচ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন।
কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন ও গৃহিণী ফাতেমা খাতুন দম্পতির বড় ছেলে ওমর ওসমান রাজু। তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁকে নিয়ে বৃহস্পতিবার দৈনিক সমকালে ‘ছেলে পড়াশোনা করতে চায়, কিন্তু আমি পারতিছি নে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজুর বাড়িতে দেখা যায়, উঠানে স্বপ্নের চেক নিয়ে চেয়ারে বসে আছেন মা-ছেলে। তাদের চোখে আনন্দের অশ্রু। আবেগে আপ্লুত ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘সংসারে ইনকামের লোক নেই। কাপড়চোপড়, বই-খাতা, খেতে দিতে পারি না। কত করে বলেছি– তুই পড়িস নে। ও বলে, তাও পড়ব। এসব কথা খবরে উঠলে অনেকেই ফোন দিচ্ছে। স্বপ্নওয়ালারা সাড়ে তিন লাখ টাকার চেক দিছে। আলাউদ্দিন স্যার ফোন দিছেন। এখন খুব খুশি। সবাই আমার রাজুর জন্য দোয়া করবেন।’
স্বপ্ন সুপারশপের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রাসেল আল মামুন বলেন, পত্রিকা ও ফেসবুকে মেধাবী রাজুর সংগ্রামী জীবনের একটি প্রতিবেদন এমডি স্যারের নজরে আসে। তখন স্বপ্ন পরিবারের পক্ষ থেকে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।
আলাউদ্দিন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রাজুকে শিক্ষাকালীন মাসিক পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রথম মাসের টাকাটা রাজুর হাতে নগদ তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসগুলোর টাকা তার ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার টাকা এসেছে রাজুর বিকাশ নম্বরে। তিনি জানিয়েছেন, অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মানুষের এই এগিয়ে আসায় কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন রাজু। দুপুরে রাজু বলেন, ‘সংবাদ প্রচার হলে অসংখ্য মানুষ ফোনে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। স্বপ্ন সুপারশপ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার চেক ও আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন থেকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকার বৃত্তি দিয়েছে। এখন আর টাকার সমস্যা নেই। পড়াশোনা করে মানুষ হওয়ার স্বপ্ন বেঁচে রইল।’
- বিষয় :
- স্বপ্ন
