জীবিত আবদুল মজিদ সরকারি তালিকায় ‘মৃত’, বন্ধ বয়স্ক ভাতা
দেড় বছর ধরে ভাতাবঞ্চিত আবদুল মজিদ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ছবি: সমকাল
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:৩৯
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রায় ৯০ বছরের বৃদ্ধ আবদুল মজিদকে সরকারি তালিকায় ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর বয়স্ক ভাতা। প্রায় দেড় বছর ধরে ভাতাবঞ্চিত আবদুল মজিদ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামে।
বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সমাজসেবা কার্যালয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন আবদুল মজিদ। কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি।
এলাকাবাসী ও দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার মউ গ্রামের আবদুল মজিদ প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারি বয়স্ক ভাতা পেতেন। তবে গত প্রায় দেড় বছর আগে হঠাৎ তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে আবদুল মজিদ জানতে পারেন, সরকারি তালিকায় তাঁকে ‘মৃত’ হিসেবে অন্তভুক্ত দেখানো হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঘুরছেন। কিন্তু কোনও সমাধান হচ্ছে না।
আবদুল মজিদ বলেন, আগে ভাতার টাকা পাইলে ওষুধ কিনতাম, ভালো কিছু খাইতাম। দেড় বছর ধরে বয়স্ক ভাতার টাকা পাই না। বুড়া হইয়া গেছি, ভালো কিছু খাইতে মন চায়। যদি আবার টাকাডা পাইতাম, একটু শান্তিতে বাঁচতে পারতাম।
আবদুল মজিদের ছেলে আবুল বাসার জানান, ভাতা বন্ধ হওয়ার পর তিনি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তালিকায় তাঁর বাবাকে মৃত দেখানো হয়েছে। পরে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি অফিসে গেলেও এখনও সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি।
এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ফকির বলেন, চোখের সামনে জীবিত একজন মানুষকে কাগজে মৃত দেখানো চরম অবহেলার পরিচয়। দ্রুত ভুল সংশোধন করে তাঁর প্রাপ্য ভাতা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো হালনাগাদ তালিকায় আবদুল মজিদকে মৃত দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে একটি মৃত সনদ জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি মারা যান। এর ভিত্তিতে তাঁর স্থলে ভাতাভোগী হিসেবে একই এলাকার আবুল কালামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইদুল ইসলাম বলেন, তথ্য হালনাগাদের সময় তিনি আবদুল মজিদকে মৃত হিসেবে দেখাননি।
দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো তালিকা ও প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে প্রতিস্থাপন কার্যক্রম করা হয়েছে। সেখানে আবদুল মজিদকে মৃত দেখানো হয়েছিল, তবে বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুতই তিনি পুনরায় ভাতা পাবেন বলে আশা করছি।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে বলা হয়েছে।
