কুকুরের কামড়ে অর্ধশত আহত জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই তাণ্ডব চালায় কুকুরটি। শুক্রবার ভোরে কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন স্থানীয়রা।
পাগলা কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে রয়েছেন পাকুন্দিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর স্বপন মিয়া, নারান্দী এলাকার আসমা, মধ্য পাকুন্দিয়া এলাকার শিশু আকিব আলম, শিমুলিয়া গ্রামের ইমরানসহ আরও অনেকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূ-ই-আলম খান জানান, আক্রান্তদের অনেকেই হাসপাতালে এসে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তবে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কুকুরটি মেরে ফেলা হলেও আক্রান্তদের সবাইকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জলাতঙ্কের পূর্ণ কোর্স ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে এবং গৃহপালিত পশুদের দিকেও নজর রাখতে হবে।
পুলেরঘাট বাজারের ব্যবসায়ী কৃষ্ণ চন্দ্র দে জানান, বৃহস্পতিবার রাতভর কুকুরের আতঙ্কে মানুষ লাঠি হাতে দলবদ্ধভাবে চলাচল করেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘কুকুরটি মারা গেলেও এটি যদি অন্য কোনো কুকুরকে কামড়ে থাকে, তবে সেগুলোও অচিরেই পাগল হয়ে মানুষকে কামড়াবে। আমার দাদা শঙ্কর চন্দ্র দের সময়েও এমনটি ঘটেছিল।’ অবশেষে শুক্রবার ভোরে নারান্দি ইউনিয়নের শালংকা গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে কুকুরটি পিটিয়ে হত্যা করলে সাময়িকভাবে স্বস্তি ফিরলেও নতুন পাগলা কুকুরের ভয় কাটছে না স্থানীয়দের।
এদিকে কুকুরে কামড়ানো রোগীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন। তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় ও সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
- বিষয় :
- কুকুরের কামড়ে আহত
