ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তেলিয়াপাড়ার ইতিহাস উপেক্ষিত, মুক্তিযোদ্ধারা পাননি প্রাপ্য সম্মান: মির্জা ফখরুল

তেলিয়াপাড়ার ইতিহাস উপেক্ষিত, মুক্তিযোদ্ধারা পাননি প্রাপ্য সম্মান: মির্জা ফখরুল
×

মাধবপুরে ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সমকাল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:২৮

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া সত্ত্বেও তেলিয়াপাড়ার অবদান দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদেরও যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি।

শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস দেশের মানুষের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানও বিভিন্ন সময়ে অবমূল্যায়িত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোতে ওসমানী, জিয়াউর রহমানসহ শীর্ষ সেনানায়কদের অংশগ্রহণে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই বৈঠক থেকেই গেরিলা যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণে দিকনির্দেশনা আসে, যা পরবর্তী সময়ে বিজয় অর্জনে বড় ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল সংস্কার ইস্যুতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। অথচ ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া ঘোষিত ৩১ দফার সঙ্গে বর্তমান সংস্কার প্রস্তাবের মিল রয়েছে। বিএনপি সংস্কার চায় না— এমন অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, শাখাওয়াত হোসেন জীবনসহ অনেকে।

সমাবেশে আহমেদ আযম খান বলেন, তেলিয়াপাড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অতীতে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনায় এ দিবস পালনের চেষ্টা হয়েছে। বর্তমান সরকার তেলিয়াপাড়া দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং এ স্থানকে সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বক্তারা তেলিয়াপাড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি শুধু একটি স্থান নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের সামরিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অতীতে এই দিবস যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ এবং পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদসহ অন্যান্য বক্তারা তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা সর্বসম্মতিক্রমে তেলিয়াপাড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব সংরক্ষণ ও জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।

আরও পড়ুন

×