ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কেরানীগঞ্জে আগুনের ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৬

কেরানীগঞ্জে আগুনের ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৬
×

আগুনে পুড়ে যাওয়া গ্যাসলাইট কারখানায় ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। ছবি: ফায়ার সার্ভিসের সৌজন্যে

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:১২

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

শনিবার দিবাগত রাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে, শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। সংস্থার সাতটি ইউনিটের চেষ্টায় দুপুর আড়াইটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, টিনশেড কারখানায় আগুনের খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। পর্যায়ক্রমে ইউনিট বাড়িয়ে সাতটি করা হয়। 

এ ঘটনায় আহত ও দগ্ধ হয়েছেন আরও কয়েকজন। দগ্ধ দুই শ্রমিককে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে মো. জিসান নামে একজনের শরীরের ২২ শতাংশ ও মো. আসিফের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এদিকে হতাহতদের পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পরিচালককে (অপা. ও মেইন) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল। ফলে শ্রমিকরা সবাই দ্রুত বের হতে পারেননি। তখন ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তারা বাঁচার জন্য চিৎকার করছিলেন। অনেকেই বের হওয়ার জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর ফটকটি খোলা হয়। কারখানায় অন্তত ১৮ জন শ্রমিক ছিলেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, বিকেলে পাঁচজনের লাশ অজ্ঞাত হিসেবে মিটফোর্ড মর্গে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় একজনের লাশ শনাক্ত হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর বাকি চারজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিন সমকালকে বলেন, কারখানায় বিপুল পরিমাণ গ্যাসলাইটার, গ্যাস সিলিন্ডার ও লাইটার তৈরির প্লাস্টিক দানা ছিল। এ কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মরদেহগুলো নারী না পুরুষের তা বোঝা যাচ্ছে না।  

আরও পড়ুন

×